নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন মা কালী। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে শুরু করে সাহিত্য, গান, নাটক, বাঙালির জীবনের নানা ক্ষেত্রে বারবার উঠে এসেছে শ্যামা মায়ের প্রসঙ্গ। বাদ যায়নি বাংলা সিনেমাও। কখনও দেবী কালীর মাহাত্ম্য, কখনও ভক্তি ও বিশ্বাস, আবার কখনও নারীর শক্তির প্রতীক হিসেবে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছে মা কালীর উপস্থিতি। বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু ছবি তৈরি হয়েছে, যেগুলি আজও দর্শকদের মনে জায়গা করে রেখেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই ৭টি ছবির কথা।
দেবী (১৯৬০)
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মা কালীর প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই মনে পড়ে সত্যজিৎ রায়ের ‘দেবী’ ছবির কথা। ছবিতে দয়াময়ী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। গল্পে দয়াময়ীর শ্বশুর স্বপ্নে তাঁকে দেবী কালীর অবতার হিসেবে দেখেন। সেই বিশ্বাস থেকেই দয়াময়ীকে ঘিরে শুরু হয় নানা ঘটনা। ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার এবং নারীর অসহায় অবস্থানকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছিলেন সত্যজিৎ রায়। আজও বাংলা সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হিসেবে বিবেচিত হয় ‘দেবী’।
মহাতীর্থ কালিঘাট (১৯৬৪)
নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান কালীঘাটের সম্পর্ক। মা কালীর মাহাত্ম্য, ভক্তি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল ছবিটি। বাঙালির কাছে কালীঘাট শুধুমাত্র একটি মন্দির নয়, বহু মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের জায়গা। সেই ধর্মীয় আবহই উঠে এসেছে এই ছবিতে।
জয় মা কালী বোর্ডিং (১৯৫৫)
পুরনো বাংলা সিনেমার তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম ‘জয় মা কালী বোর্ডিং’। সাধন সরকারের পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ছবি বিশ্বাস, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, তুলসী চক্রবর্তী এবং তৃপ্তি মিত্রের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। সাদা-কালো বাংলা সিনেমার সেই সময়ের অভিনয়শৈলী ও গল্প বলার ধরন ছবিটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
কালী আমার মা (১৯৯৯)
মা কালীর প্রতি ভক্তি এবং মাতৃস্নেহের আবেগকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল ‘কালী আমার মা’। ছবিতে লক্ষ্মী নামে এক ছোট্ট মেয়ের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে। জন্মের পরই মাকে হারানো লক্ষ্মী দেবী কালীর মধ্যেই খুঁজে পায় মায়ের স্নেহ ও আশ্রয়। জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিতে মা কালীর প্রতি তার বিশ্বাসই হয়ে ওঠে ভরসা। ছবিটির পরিচালনায় ছিলেন শান্তিলাল সোনি।
মা এক মন্দির (১৯৮৮)
আশির দশকের বাংলা ছবির মধ্যে পরিচিত নাম ‘মা এক মন্দির’। সুখেন দাস পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় এবং ইন্দ্রাণী দত্তের মতো শিল্পীরা। সেই সময়ের বাংলা বাণিজ্যিক ছবির দর্শকদের কাছে ছবিটি পরিচিতি পেয়েছিল।
মা ভবানী মা আমার (১৯৮২)
মাতৃশক্তি ও ভক্তির আবহে তৈরি বাংলা ছবির তালিকায় রয়েছে ‘মা ভবানী মা আমার’। সাধন চৌধুরী পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতা দে, অনুপকুমার এবং অসিতবরণ। আশির দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ছবিটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
চিংড়ি দেবী
কালীঘাটের পরিবেশ এবং সেখানকার জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘চিংড়ি দেবী’ ছবিতে উঠে এসেছে নারীজীবনের নানা দিক। এখানে দেবী কালীর ভাবনা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নারীর শক্তি, প্রতিবাদ এবং অস্তিত্বের সঙ্গেও জুড়ে রয়েছে। পরিচালনায় ছিলেন স্তুতি সেনগুপ্ত।




