নিউজ ডেস্ক: বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখ্য নেতা অভিজীত দিপকে। তাঁর দাবি, জোর খাটিয়ে ইনস্টাগ্রাম থেকে সরকারের সমালোচনামূলক হাজার হাজার পোস্ট সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর একটি ভিডিও তিনি শেয়ার করে লিখেছেন শাসক ক্ষমতা হারানোর ভয় পেতে শুরু করলে বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে।
ধ্রুব রাঠী ঐ ভিডিওতে জানান কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ মেনে সরকারবিরোধী সমস্ত পোস্ট মুছে ফেলা হচ্ছে ইন্সটাগ্রাম থেকে। এটা করতে গিয়ে সরকারের প্রসংশা করা হয়েছে এমন পোস্টও মুছে ফেলা হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের সূত্র দিয়ে রাঠী দাবি করেন, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ভারতে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রায় ১.৯৫ লাখ কন্টেন্ট বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার কোনো সঠিক যাচাই বা প্রতিটি পোস্টের আলাদা রিভিউ না করেই সরাসরি মেটার (Meta) সিস্টেমের মাধ্যমে একযোগে বিপুল সংখ্যক পোস্ট ভারতে ব্লক বা প্রদর্শন বন্ধ করে দিচ্ছে।
বুধবার সকালে অভিজীত দিপকে আরও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘কেন্দ্রের এই ইনস্টাগ্রাম অভিযান কাজে দেবে না! রোজ কয়েক হাজার পোস্ট ও অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু একটা সহজ কথা সরকার বুঝতে পারছে না। ইনস্টাগ্রাম একটি মাধ্যম বই আর কিছু নয়। জোর খাটিয়ে ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিলেও যে প্রশ্নগুলি মানুষ তুলছে সেগুলিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’’ কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘সচেতন’ করে তিনি বলেন, ‘‘বরং এই সেন্সরশিপের ফলে সরকারের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস আরও বাড়বে। এটা বুঝতে হবে, সরকার মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।’’
কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলেছেন আরও কয়েকজন। তার মধ্যে অন্যতম বরুণ গ্রোভর। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের ‘২০৪৭ বিকশিত ভারত’ প্রকল্প নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা মুছে ফেলা হয়েছে ইনস্টাগ্রাম থেকে। তাছাড়া ‘দেশভক্ত’ জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে মজার ছলে কেউ কিছু বললে তা-ও বরদাস্ত করা হচ্ছে না। এমনকি সংবাদমাধ্যম লাইভ লয়ের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন (Information Technology Act) এর ধারা 69A এবং ধারা 79(3)(b) এর আওতায় সরকার কোনো কন্টেন্ট দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে। পূর্বেও ধ্রুব রাঠীসহ একাধিক স্বাধীন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কিছু ভিডিও এই ধরনের সরকারি ও আইনি নির্দেশিকার অধীনে ভারতে রেস্ট্রিক্ট বা ব্লক করা হয়েছিল। তবে অনেকের দাবি বিরোধী কন্ঠ রুখতেই সরকারের এহেন পদক্ষেপ বারংবার সামনে আসছে।




