নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংস্থাগুলির শেয়ারে বড়সড় পতনের জেরে ধাক্কা খেল মার্কিন শেয়ার বাজার। ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমল বিভিন্ন শেয়ার সূচক। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির শেয়ারে দরপতনের প্রভাব পড়ল নাসডাক সূচকে। এপ্রিল ২০২৫-এর পর এই প্রথম এত বড় পতনের মুখে পড়ল S&P 500 সূচক।
বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে S&P 500 সূচক ৪.৩৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩৫৪ পয়েন্টে। Dow Jones কমেছে ৩.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে Nasdaq Composite-এর পতন ৫.৫২ শতাংশ। ছোট সংস্থাগুলির সূচক Russell 2000-ও ৪.৩৯ শতাংশ নেমেছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় এই পতন আরও তীব্র হয়েছে। একইসঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে প্রায় ৪.৪ শতাংশ। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের পতন হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। বাজারের এই ধসের ফলে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিপুল পরিমাণ বাজারমূল্যও মুছে গিয়েছে।
এই পতনের পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আমেরিকায় রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে এআই ডেটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে। তাতে চিপ, সার্ভার এবং প্রযুক্তি পরিকাঠামোর চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফা আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিন চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির শেয়ারেও বড় ধস দেখা যায়। এনভিডিয়ার শেয়ার প্রায় ৯ শতাংশ এবং এএমডির শেয়ার প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। ফলে প্রযুক্তি নির্ভর সংস্থাগুলির পাশাপাশি সামগ্রিক মার্কিন বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এপ্রিল ২০২৫-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর এই প্রথম এত বড় একদিনের পতনের মুখে পড়ল ওয়াল স্ট্রিট।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং প্রযুক্তি পরিকাঠামোর উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই আশঙ্কা থেকেই একের পর এক প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সোনার দামও বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪১২০ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন বাজারের এই নেতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও। শুক্রবার লেনদেন শুরুর আগে ASX 200 ফিউচার্স প্রায় ৪৯ পয়েন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ কমেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার শেয়ার বাজারেও পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




