পটনা: ফের এনকাউন্টারের ঘটনা বিহারে। শুক্রবার ভোরে পটনা জেলার মানের থানা এলাকার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল খুনের মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে দু’পক্ষের গুলির লড়াই। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মোট ৪২ রাউন্ড গুলি চলে। গুলির লড়াইয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। মৃত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেরপুর এলাকায় কয়েক জন সমাজবিরোধী বড়সড় গণ্ডগোল পাকানোর পরিকল্পনা করছে বলে খবর পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই গোপন খবরের ভিত্তিতেই শুক্রবার ভোরে অভিযানে নামে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অভিযানে সামিল হয়েছিল পটনা পুলিশের একটি দলও। পুলিশের দাবি, বাহিনী নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতেই অভিযুক্তেরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময় মানের থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী রজনীশ কুমারের বাঁ হাতে গুলি লাগে।
এর পরেই পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। শুরু হয় দু’পক্ষের গুলির লড়াই। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্তেরা ২৪ রাউন্ডেরও বেশি গুলি চালায়। অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনীর তরফে ১৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। সব মিলিয়ে ৪২ রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে শেরপুর এলাকা।
পুলিশের দাবি, গুলির লড়াই থামার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা প্রত্যেককেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পটনা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক কার্তিক কুমার শর্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে দু’টি পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক এবং বেশ কয়েকটি খালি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, মৃত তিনজনই একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। দুর্গাষ্টমীর দিন ঘটে যাওয়া ওই খুনের ঘটনায় তাঁদের খুঁজছিল পুলিশ। শুধু তাই নয়, দানাপুর এবং শাহপুর এলাকাতেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল এবং পুলিশের অভিযানের প্রতিটি পর্যায়ে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোরের এই ঘটনায় পটনা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।




