স্পোর্টস ডেস্ক: সোনার পদক তখন হাতের নাগালে। প্রতিপক্ষের জয়ের আনন্দও যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ হাসি হাসল চিন। দুরন্ত লড়াই, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর একের পর এক ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়েও শেষরক্ষা হল না ভারতের তানভি পাত্রীর। যুব অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনের মহিলা এককের ফাইনালে চিনের ঝাং ই শিনের কাছে হেরে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ১৫ বছরের ভারতীয় কিশোরীকে। তবে পদক হাতছাড়া হলেও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে ফেলেছেন তিনি।
সেনেগালের ডাকারে বৃহস্পতিবার রাতে ফাইনাল ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় মোড়া। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের লড়াই শেষে ঝাং জেতেন ১৫-২১, ২১-১৩, ২৬-২৪ ব্যবধানে। প্রথম গেম জিতে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন তানভি। দ্বিতীয় গেমেও একসময় ৯-৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল, প্রথম ভারতীয় হিসেবে যুব অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনে সোনার পদক জিততে চলেছেন এই কিশোরী। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান চিনের প্রতিপক্ষ।
বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন ঝাংয়ের প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা কম নয়। এক মাস আগেই বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে প্রথম গেমে পিছিয়ে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এ দিনও সেই লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিলেন। তানভির ক্লান্তি বাড়তেই তাঁর শটের নির্ভুলতা কমতে থাকে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গেম ২১-১৩ ব্যবধানে জিতে নেন ঝাং।
নির্ণায়ক গেমে তো একসময় কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চিনের খেলোয়াড়ের হাতে চলে গিয়েছিল। ৬-৬ ব্যবধানে সমতা থাকার পর ঝাং এগিয়ে যান ১৯-১০ ব্যবধানে। সোনার পদক থেকে তখন মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে তিনি। কিন্তু হার মানতে রাজি ছিলেন না তানভি। পরপর পাঁচ পয়েন্ট জিতে ব্যবধান কমান ১৯-১৫। ঝাং যখন ২০-১৫ ব্যবধানে ম্যাচ পয়েন্টে, তখনও টানা পাঁচ পয়েন্ট তুলে ২০-২০ করে দেন ভারতীয় শাটলার।
এরপর শুরু হয় স্নায়ুর লড়াই। ঝাংকে তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচাতে হয়। তানভিও বাঁচান একটি ম্যাচ পয়েন্ট। শেষ পর্যন্ত ২৫-২৪ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় তানভির একটি আক্রমণাত্মক স্ম্যাশ কোর্টের বাইরে চলে যায়। সেখানেই শেষ হয়ে যায় সোনার স্বপ্ন।
তবে এই রুপোও ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল। যুব অলিম্পিকে মহিলা এককের ফাইনালে ওঠা প্রথম ভারতীয় তানভি। এর আগে ২০১০ সালে এইচএস প্রণয় এবং ২০১৮ সালে লক্ষ্য সেন এককের ফাইনালে উঠে রুপো জিতেছিলেন। কেউই সোনা পাননি।
তানভির লড়াইয়ের নেপথ্যেও রয়েছে অন্য গল্প। ছোটবেলায় চিনে বেড়ে ওঠা এই শাটলারের বাবা সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কর্মরত ছিলেন। ফলে চিনা খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ধরন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ব্যাডমিন্টনের পাশাপাশি ফিগার স্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। যা তাঁর ভারসাম্য ও পায়ের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এশীয় অনূর্ধ্ব-১৭ জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের সোনাজয়ী তানভির সামনে এখন দীর্ঘ পথ। ডাকারে সোনা অধরা থাকলেও তাঁর এই লড়াই বুঝিয়ে দিল, বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে ভারতের নতুন তারকার আবির্ভাব ঘটছে।




