স্পোর্টস ডেস্ক: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে ধাক্কা খেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ওমানের আল সিব ক্লাবের কাছে ০-২ গোলে হারের ক্ষত এখনও টাটকা। কিন্তু ঘরোয়া লিগে লাল-হলুদের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নের মতো। প্রথম দুই ম্যাচে ৯ গোল করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে মশালবাহিনী। সেই ছন্দ ধরে রেখেই শনিবার চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চলেছে অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাসের দল। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।
আইএসএলের খেতাব ধরে রাখার অভিযানে শুরু থেকেই দাপট দেখাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। গোয়ায় চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে মরশুম শুরু করেছিল তারা। পরের ম্যাচে পুনেতে ইন্টার কাশিকে হারায় ৫-১ গোলে। দুই ম্যাচে ৯টি গোল করার পাশাপাশি মাত্র একটি গোল হজম করেছে লাল-হলুদ। আক্রমণভাগের ধার যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই রক্ষণেও দেখা গিয়েছে সংগঠিত ফুটবলের ছাপ। এ বার সেই পারফরম্যান্স চেন্নাইয়ের মাঠেও তুলে ধরাই লক্ষ্য।
তবে আল সিবের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ছোট ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। তাই চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝড় তোলার পাশাপাশি মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ সামলানোর দিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে হাবাসকে।
অন্য দিকে, চেন্নাইয়িনের মরশুমের শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি। চার ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১২ নম্বরে রয়েছে দু’বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়নরা। বেঙ্গালুরু এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হারতে হয়েছে তাদের। এফসি গোয়া এবং কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ড্র করেছে দল। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে এ বার ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে মেরিনা মাচান্সরা।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য সামান্য এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। ২০২০-২১ মরশুম থেকে এখনও পর্যন্ত ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। লাল-হলুদের জয় ৪টি, চেন্নাইয়িন জিতেছে ৩ বার। বাকি ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আরও একটি পরিসংখ্যান ইস্টবেঙ্গলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। চেন্নাইয়ের মাঠে শেষ তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত তারা। ২০২৩-২৪ মরশুমে ১-১ ড্রয়ের পর ২০২৪-২৫ মরশুমে ২-০ এবং ২০২৫-২৬ মরশুমে ৩-১ গোলে জিতেছিল লাল-হলুদ। চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন বিপিন সিং। দুই ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৩।
ম্যাচের আগে হাবাস জানিয়েছেন, প্রতিটি আইএসএল ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ। চেন্নাইয়িনের ভাল ফুটবলার এবং পরিচিত কোচ রয়েছেন। ঘরের মাঠ ও প্রতিপক্ষের মাঠ—দুই জায়গাতেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। দলের প্রত্যেক ফুটবলারের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন লাল-হলুদ কোচ। ডিফেন্ডার দিয়েগো জিভুকিচের কথায়, রক্ষণে দলের ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। তবে এএফসি প্রতিযোগিতায় শেষ দুই ঘরের ম্যাচে ছোট ভুলের জন্য বড় মাশুল দিতে হয়েছে। ঘরোয়া ও মহাদেশীয়— দুই স্তরেই সেই ভুল শুধরে নিতে হবে।
ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে ইউটিউব ও সোনি লিভে। টেলিভিশনে সম্প্রচার করবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক।




