নিউজ ডেস্ক: ঘন জঙ্গলের ভিতর থেকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের লেলিহান শিখা। কোথাও ধোঁয়াই ঢেকে যাচ্ছে আকাশ, কোথাও আবার দাউ দাউ করে জ্বলছে শুকনো গাছপালা। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাচ্ছে পরিচিত সবুজ বনাঞ্চলের চেহারা। এই পরিস্থিতিতেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। বিশেষ করে জঙ্গলের ভিতরে থাকা বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন। কিন্তু কিভাবে আগুনের সূত্রপাত? এর নেপথ্যে কি কারও ইচ্ছাকৃত ভূমিকা রয়েছে?
কালিংপং জেলার চালতা ফরেস্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক ছোট বড় গাছ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। বনাঞ্চলের এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, সময় মত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে জঙ্গলের ভিতরে থাকা শুকনো কাশিয়ার গাছে আগুন লাগার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে ওই গাছে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনও মেলেনি। ঠিক কি কারণে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে, আগুনের জেরে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়েছে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণীরা। চালতা ফরেস্টে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস। জঙ্গলের ভিতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক বন্যপ্রাণী জঙ্গল ছেড়ে আশেপাশের লোকালয়ে ঢুকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। সেক্ষেত্রে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এদিকে, পাহাড়ি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা জরুরি। বন দফতর ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দোষীদের চিহ্নিত করার দাবীও জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। এখন বড় প্রশ্ন, কত দ্রুত আগুনের গ্রাস থেকে চালতা ফরেস্টকে রক্ষা করা সম্ভব হবে?




