নিউজ ডেস্ক: সংসদে এখনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু বাংলার পঞ্চায়েত রাজনীতিতে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে NCPI। এবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিলেন তৃণমূল পরিচালিত দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২৩ জন সদস্য। এই দলবদলের জেরে মুরারিশাহ ও বগজুড়ি—দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই দখল গেল NCPI-র হাতে। ঘটনায় নতুন করে সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে NCPI-তে যোগ দেন মুরারিশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩ জন এবং বগজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ জন সদস্য। বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই দুই পঞ্চায়েতের সদস্যদের একসঙ্গে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয় রাজনীতিতে এই যোগদানকে তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
দলবদলের কারণ হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন সদ্য NCPI-তে যোগ দেওয়া সদস্যরা। তাঁদের দাবি, দলের দুর্নীতিতে তাঁরা বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। পাশাপাশি, পঞ্চায়েতের সদস্য হয়েও ঠিকমতো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সদ্য দলবদল করা সদস্যদের আরও দাবি, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনমুখী কাজকর্ম ও নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই এই সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, বাংলার নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের ২০ জন সাংসদ বিক্ষুব্ধ হিসেবে দল ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তাঁরা NCPI-তে যোগ দেন। যদিও সংসদে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় স্বীকৃতি নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি। সংসদীয় নথিতে তাঁদের নামের পাশে এখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, এনডিএ-র বৈঠকেও NCPI-তে যোগ দেওয়া নেতাদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলার পঞ্চায়েত স্তরে NCPI-র সংগঠন বিস্তারের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। NCPI-র মুখপাত্র অনুরাগ সিংহের বক্তব্য, পঞ্চায়েতের সদস্য হয়েও অনেকে কাজ করতে পারছিলেন না। সেই কারণেই তাঁরা নতুন দলের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই দলবদলের পর সংশ্লিষ্ট দুই পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে বদলায়, সেটাই এখন দেখার। বসিরহাটের এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও দলবদলের নতুন প্রবণতা তৈরি করে কি না, সেদিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের।




