নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ। ছয় বছর পর গ্রেফতার গ্রেফতার হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দাপুটে তৃণমূল নেতা ইমরান হাসান। বুধবার গভীর রাতে দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে উস্তি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনায় আরও যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, ধৃত ইমরান হাসান মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে বিজেপি নেতাকর্মীদের হুমকি, মারধর এবং তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে ইমরানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ইমরান হাসানকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামীম আহমেদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, ২০২১ - এর বিধানসভা ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাচ্ছিলেন জে পি নাড্ডা। সেই সময় তাঁর গাড়ি-সহ কনভয়ে থাকা কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরের একাধিক নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় চলে ইটবৃষ্টি। শুধু তাই নয়, গাড়ি লক্ষ্য করে উড়ে আসে লাঠি, পতাকা লাগানোর ডান্ডা। এমনকি, দিলীপ ঘোষের গাড়ির কাচ ভাঙা হয়, ইটের আঘাতে হাতে চোট পান কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পালাবদলের পর নতুন করে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রথমে তৌসিফ আহমেদ, আরিফ হোসেন ও আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জেরা করে ২টো আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। এবার ৬ বছর আগের সেই হামলাকাণ্ডের মামলায় জাহাঙ্গির খানকে যুক্ত করে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতার ইমরানও।
এমনকি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার উপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল ইমরান হাসানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার গাড়িতে হামলার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক অভিযোগের আবহে ইমরান হাসানের গ্রেফতারি ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পুলিশের তরফে বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।




