নিউজ ডেস্ক: কখনও মারিয়ো দৌড়চ্ছে, কখনও পোকেমন ছুটছে, আবার কখনও লেজেন্ড অফ জেল্ডার হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গেমপ্রেমীরা। ভিডিও গেমের দুনিয়ায় নিন্টেন্ডোর জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু সংস্থার ব্যবসার হিসাবটা এবার কিছুটা গোলমেলে! মুনাফার খাতায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি, অথচ বিক্রির অঙ্কে ১২ শতাংশ পতন। অর্থাৎ, পকেটে টাকা ঢুকছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে আগের মতো দাপট দেখাতে পারছে না জাপানের এই সংস্থা। তবে মারিয়ো যেন শেষ মুহূর্তে এসে খেলাটা ঘুরিয়ে দিয়েছেন!
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আর্থিক রিপোর্টে নিন্টেন্ডো জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ২২ হাজার ৯০ কোটি ইয়েন। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৯০০ কোটি ইয়েন। অর্থাৎ, মুনাফা বেড়েছে ১১ শতাংশ। কিন্তু এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থার মোট বিক্রি ১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি ইয়েনে। একদিকে মুনাফার স্কোরবোর্ডে এগিয়ে নিন্টেন্ডো, অন্যদিকে বিক্রির খেলায় কিছুটা পিছিয়ে।
কনসোল বিক্রির হিসাবেও রয়েছে নতুন-পুরনোর লড়াই। প্রথম ছয় মাসে পুরনো সুইচ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১২ লক্ষ ৭০ হাজারটি। সেখানে নতুন সুইচ ২ বিক্রি হয়েছে ৬৪ লক্ষ ৯০ হাজারটি। অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মের কনসোলের দিকেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা। পুরনো সুইচের জনপ্রিয়তা থাকলেও নতুন মেশিনের সামনে যেন কিছুটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে তার আকর্ষণ।
গেমের বাজারে অবশ্য নিন্টেন্ডোর ব্যাটিং এখনও জমজমাট। নতুন প্রকাশিত ‘স্টার ফক্স’ এবং ‘স্প্ল্যাটুন রেইডার্স’ ভাল ব্যবসা করেছে। পুরনো ‘মারিয়ো কার্ট ওয়ার্ল্ড’-এর চাহিদাও কমেনি। অর্থাৎ, নতুন গেমের পাশাপাশি পুরনো তারকাদের জনপ্রিয়তাও ধরে রাখতে পেরেছে সংস্থা।
তবে এবারের আর্থিক খেলায় আসল ‘সুপারহিরো’ হয়ে উঠেছে মারিয়ো। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যানিমেশন ছবি ‘দ্য সুপার মারিয়ো গ্যালাক্সি মুভি’ নিন্টেন্ডোর আয়ের অঙ্ক বাড়াতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল গেম বিক্রি এবং অনলাইনে গেম ডাউনলোডের মাধ্যমে আয়ও বেড়েছে। ফলে কনসোল বিক্রিতে কিছুটা ধাক্কা খেলেও অন্য রাস্তা দিয়ে মুনাফার ঝুলিতে টাকা ঢুকেছে।
এবার নজর বড়দিন ও নতুন বছরের মরসুমে। নিন্টেন্ডোর মতো সংস্থার কাছে এই সময়টা কার্যত ফাইনাল ম্যাচ। উপহার দেওয়ার মরসুমে সাধারণত গেম কনসোল ও সফটওয়্যারের বিক্রি অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলানোর আশা করছে সংস্থা।
২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত পুরো অর্থবর্ষের জন্য অবশ্য পূর্বাভাস বদলায়নি নিন্টেন্ডো। তাদের লক্ষ্য, মোট ২ লক্ষ কোটি ইয়েনের ব্যবসা এবং ৩১ হাজার কোটি ইয়েন নিট মুনাফা। তবে আগের অর্থবর্ষের তুলনায় মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ এবং বিক্রি ১১ শতাংশ কমতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সমস্যা রয়েছে আরও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে বিপুল চাহিদার কারণে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার চিপের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বেড়েছে চিপের দামও। তার প্রভাব পড়তে পারে নিন্টেন্ডোর উৎপাদন ও ব্যবসায়। তবে আপাতত শেয়ার বাজারে সংস্থার জন্য সুখবর। বৃহস্পতিবার টোকিয়োর বাজারে নিন্টেন্ডোর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ।
সব মিলিয়ে নিন্টেন্ডোর অবস্থা এখন অনেকটা এমন—বিক্রির খেলায় কয়েকটি পয়েন্ট হারালেও মুনাফার ম্যাচে এখনও টিকে রয়েছে তারা। আর সেই লড়াইয়ে মারিয়ো, পোকেমনদের জনপ্রিয়তাই আপাতত সংস্থার বড় ভরসা!




