নিউজ ডেস্ক: বিরাট কোহলিকে ঘিরেই তখন যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ব্যাট হাতে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। অন্য দিকে, তাঁর সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন বর্তমান অধিনায়ক শুভমান গিল। চাইলে নিজেও রান করার তাগিদে বড় শট খেলতে পারতেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে দলের প্রয়োজনকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন গিল। কোহলিকে স্বচ্ছন্দে ব্যাট করার সুযোগ করে দিয়ে নিজের ইগো যে দলের স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে সেটাই দেখালেন ভারত অধিনায়ক।
বুধবার অকল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের এক দিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৩২ ওভারে ১৪৩ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম ওভারেই কাইল জেমিসনের বলে শূন্য রানে ফিরে যান রোহিত শর্মা। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দল। সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন কোহলি। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন গিল।
এর পর থেকেই ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করে। কোহলি যখন নিজের পরিচিত ছন্দে ব্যাট করছিলেন, তখন অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন গিল। কোহলিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার সুযোগ করে দেন তিনি। নিজে অযথা বড় শট খেলার চেষ্টা করেননি। বরং পরিস্থিতি বুঝে সিঙ্গলস এবং ডাবলস নিয়ে রান এগিয়ে নিয়ে যান। দুই ব্যাটারের মধ্যে বোঝাপড়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের জুটিতে ওঠে ১১৩ রান। এই জুটিই কার্যত ম্যাচ থেকে নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে দেয়।
কোহলি শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৭৪ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন শটের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ছাপ। অন্য দিকে, গিল ৫৬ বলে ৩৭ রান করেন। ব্যক্তিগত রান খুব বেশি না হলেও দলের জয়ে তাঁর অবদান ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কোহলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করার চেষ্টা না করে তাঁকে নিজের মতো খেলতে দেওয়াটাই ছিল গিলের পরিণত সিদ্ধান্ত।
বৃষ্টির কারণে বার বার খেলা বন্ধ হওয়ায় দুই দলকেই পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। প্রথমে ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৮৬ রান। পরে বৃষ্টির জন্য ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় তা দাঁড়ায় ১৪৩। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত রান তোলার প্রয়োজন ছিল। কোহলি সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। গিল তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন।
শেষ দিকে পর পর কয়েকটি উইকেট পড়লেও ভারতের জয় আটকায়নি। নেমেন ধীর বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। তার আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৮৫ রানে। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং চারটি, গুরনুর ব্রার তিনটি এবং অংশুল কম্বোজ দু'টি উইকেট নেন।
ম্যাচের আলো অবশ্যই কোহলির ৭৪ রানের ইনিংস। কিন্তু অধিনায়ক হিসাবে গিলের এই ভূমিকার গুরুত্বও কম নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় তারকাদের সঙ্গে খেলতে গেলে অনেক সময় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু গিল বুঝিয়ে দিলেন, অধিনায়কত্ব মানে সব সময় নিজের পারফরম্যান্সকে সামনে রাখা নয়। দলের যে ব্যাটার ভাল খেলছেন, তাঁকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দেওয়াও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অকল্যান্ডে কোহলির পাশে দাঁড়িয়ে সেই পরিণত মানসিকতারই পরিচয় দিলেন ভারত অধিনায়ক।




