নিউজ ডেস্ক: ইরানের তেল পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে চণ্ডীগড়ের এক দম্পতি এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল আমেরিকা। অভিযুক্ত দম্পতি সুনীল কুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শাহিদের বিরুদ্ধে জাহাজের ভুয়ো পরিচয়পত্র ও শংসাপত্র তৈরির মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহণে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আমেরিকার অর্থ দফতর তাঁদের এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মার্কিন অর্থ দফতরের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতারণা করে জাহাজের জন্য ভুয়ো পতাকা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এবং সামুদ্রিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্থা তৈরি করেছিলেন ওই দম্পতি। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের তেল পরিবহণ করা সম্ভব হচ্ছিল। তাঁদের তৈরি সংস্থাগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামে কাজ চালাত। গায়ানা থেকে এসওয়াতিনি, লাওস-সহ একাধিক দেশের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি আমেরিকার।
মার্কিন অর্থ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রায় প্রতিটি মহাদেশের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে শর্মা ও শাহিদ ইরানের ছায়া নৌবহরকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে সাহায্য করেছেন। এই নৌবহরের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের হয়ে কাজ করা জাহাজও রয়েছে।’
আমেরিকার অভিযোগ, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে এসওয়াতিনি মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল শিপ রেজিস্ট্রি পিটিই লিমিটেড নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন শর্মা। যদিও এসওয়াতিনি সরকার প্রকাশ্যেই ওই সংস্থার সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, তা সত্ত্বেও সংস্থাটি ইরানের পেট্রোলিয়াম পরিবহণকারী জাহাজগুলিকে পতাকা সংক্রান্ত পরিষেবা দিয়ে চলেছে বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।
আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপের কথা জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথায় রয়েছেন, তা আমরা জানি। ইরানের শাসনব্যবস্থাকে যারা স্থলপথে, সমুদ্রপথে অথবা আকাশপথে সাহায্য করে চলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিষেধাজ্ঞা জারি করব।’
মার্কিন অর্থ দফতরের দাবি, শর্মা ও শাহিদ মূলত ভারতে অবস্থিত একাধিক সংস্থার একটি জাল পরিচালনা করেন। সেই সংস্থাগুলির কয়েকটি ভুয়ো জাহাজের পতাকা নিবন্ধন তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতে অবস্থিত ওশানিয়েক টেকনোলজিস ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শর্মা। অভিযোগ, আরুবা, নিকারাগুয়া এবং সিন্ট মার্টেনের নামে ভুয়ো পতাকা নিবন্ধন তৈরি করতে এই সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
শর্মার ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েক জন ভারতীয়ের নামও উল্লেখ করেছে আমেরিকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অশ্বিনী কুমার ধীমান এবং ইশবিন্দর সিং। তাঁরা আর্যাবর্ত শিপ ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড-সহ শর্মার বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থায় নামমাত্র পরিচালক হিসাবে রয়েছেন বলে মার্কিন অর্থ দফতরের দাবি।
অন্যদিকে, শাহিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভারতে অবস্থিত একাধিক সংস্থার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে প্রিসেপ্ট ট্রেন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড, পলিনেশিয়া মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড, আলেক্সারিয়া ফিনসার্ভ প্রাইভেট লিমিটেড, আলেক্সারিয়া মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, বিহারাবোটিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং আর্যাবর্ত মেরিটাইম অ্যান্ড এডুকেশনাল ট্রাস্ট।
ইরানের তেল পরিবহণের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পদক্ষেপ করছে আমেরিকা। সেই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে জাহাজের পরিচয় ও নিবন্ধন সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে এবার ভারতীয় দম্পতি এবং তাঁদের সংস্থাগুলিকে নিশানা করল ওয়াশিংটন।




