নিউজ ডেস্ক : আমেরিকার রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের পর এবার তার প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে শুরু হলো নতুন হিসাব নিকাশ। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দামে এক ধাক্কায় বড় পতন। ফলে, ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতেও এই পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
৪ নভেম্বর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় চর্চা। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান শিবির বড় ধাক্কা খায়। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ডেমোক্রেটরা। এর ফলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে পারে রিপাবলিকান সরকার।
এই ফলাফলের পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন দেখা যায়। ৪ নভেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮.৭% কমে ব্যারেল প্রতি ৯৪.৬২ ডলারে পৌঁছই। অন্যদিকে, আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI ক্রুডের দামও প্রায় ৮.৩ % কমে যায়।
কিন্তু, নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে তেলের দামের সম্পর্ক কোথায়? মূলত ইরান সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীদের একাংশের ধারণা, কংগ্রেসের ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সংঘাত কমলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। সেই আশাতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পতন হয়েছে বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে, নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্পও। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অবিলম্বে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ দেশের জ্বালানির দাম নির্ভর করে আমদানি খরচ, ডলারের বিনিময় মূল্য এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির সিদ্ধান্তের উপর। ফলে, বিশ্ববাজারের এই পতনের সুযোগ ভারতীয় গ্রাহকদের কাছে পৌঁছবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আপাতত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর বিশেষজ্ঞদের।




