নিউজ ডেস্ক: এবার পুলিশের জালে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। বুধবার সন্ধ্যায় টেরিটি বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। ইন্দ্রনীলের পাস কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি, এমনটাই দাবি পুলিশের। ইউনেস্কোর নাম-লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন তিনিও। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠাল কলকাতার অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (২)। কিন্তু কে এই শুভ?
জানা গিয়েছে, টালা প্রত্যয়ের পুজোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ধ্রুব। গত বছর পর্যন্ত টালা প্রত্যয়ের পুজোর অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের টেন্ডারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছিল ধ্রুবজ্যোতির সংস্থা। ইন্দ্রনীল সেনের হাত ধরে তৃণমূলের অন্দরমহলে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ধ্রুবজ্যোতি। ইন্দ্রনীলের ‘মাস আর্ট’ সংস্থার সচিব পদেও ছিলেন। ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রির ঘটনায় তিনিই মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি তদন্তকারীদের।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরেই তৈরি হয়েছিল মাস আর্ট সোসাইটি। এই সংস্থাকে সামনে রেখেই পুজোর ভিআইপি পাস এবং প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সংস্থার অন্যতম মাথা ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে টাকা তোলা হত বলে অভিযোগ। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে মোটা টাকায় পাস ও টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। মোট ১১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পুজো পাসের বেআইনি কাজ থেকেই অন্তত ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।
দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং এন্ট্রি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের জেরে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী। তারপর একে একে তলব করা হয় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী এবং মেয়েকে। 'মাস আর্ট' নামক একটি সংস্থাকে কেন্দ্র করে এই দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, মাস আর্ট সংস্থা গঠনের নেপথ্যে ইন্দ্রনীল সেন ও ধ্রুবজ্যোতি বসুর ভূমিকা ছিল। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং প্রিভিউ শো আয়োজনের নামে কীভাবে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় ধৃতের ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।




