নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে খড়গপুর রেল স্টেশনে যেন একেবারে থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য। গন্তব্য ছিল হাওড়া, কিন্তু মাঝপথেই রেল পুলিশের জালে আটকে গেল সেই যাত্রা।
টাটানগর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সব মিলিয়ে অঙ্কের হিসেব প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ! ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল পড়ে যায় স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ধৃত যুবকের নাম রাহুল সোনি, বাড়ি হাওড়া এলাকায়।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টাটানগর থেকে ট্রেনে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে এক ব্যক্তি কলকাতার দিকে আসছেন এমন গোপন খবর আগেই পৌঁছেছিল আধিকারিকদের টেবিলে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সকাল থেকেই খড়গপুরের ৭ ও ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সতর্ক নজরদারি শুরু করেন জিআরপি কর্মীরা।
https://x.com/ravipratapdubey/status/2117935677413499022?a=qDkOZD2a75iezcKeZWk&s=08
সকাল আনুমানিক ১১টা নাগাদ টাটানগর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস এসে দাঁড়ায় ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ট্রেন থামতেই সন্দেহভাজন হিসেবে এক যুবককে চিহ্নিত করেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। কামরা থেকে প্ল্যাটফর্মে পা দিতেই তাঁকে ঘিরে ফেলা হয়। প্রাথমিক কিছু প্রশ্নোত্তরে তাঁর আচরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই ওই যুবকের পিঠে থাকা ভারী ব্যাগটি খুলতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের। ব্যাগের ভেতর ঠাসা ছিল একের পর এক ৫০০ টাকার নোটের তাড়া।
সন্দেহ সত্যি হতেই সময় নষ্ট না করে প্ল্যাটফর্মেই শুরু হয়ে যায় টাকা গোনার তৎপরতা। প্রাথমিক গণনায় দেখা যায়, ব্যাগে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এই বিপুল অঙ্কের নগদ টাকার স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথি বা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় সঙ্গে সঙ্গেই রাহুল সোনিকে গ্রেফতার করে খড়গপুর জিআরপি।
এত পরিমাণ নগদ টাকা কোথা থেকে এল? কার নির্দেশেই বা এই বিপুল অর্থ ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলার দিকে পাচার করা হচ্ছিল? গন্তব্যে পৌঁছনোর পর কার হাতে এই টাকা তুলে দেওয়ার কথা ছিল? নাকি এর পিছনে কোনও বেআইনি হাওয়ালা কারবার বা বড়সড় আর্থিক অপরাধচক্রের হাত রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। আপাতত ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে টাকার আসল উৎস এবং নেপথ্যে থাকা চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে জোর তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ।




