স্পোর্টস্ ডেস্ক: একের পর এক চোটের ধাক্কা। গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের হারিয়ে কার্যত চিন্তায় মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। তবু লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে কোনও অজুহাত দিতে নারাজ সবুজ-মেরুন শিবির। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই নামছে দল। তবে সেই লড়াইয়ে সাহাল আবদুল সামাদকে পাচ্ছে না মোহনবাগান।
মিগুয়েল ফিগুয়েরার পর আপুইয়া, এ বার চোটের তালিকায় নতুন সংযোজন সাহাল। মাঝমাঠের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের চোট স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তি বাড়িয়েছে কোচের। সাহালের চোটের যা পরিস্থিতি, তাতে বেশ কয়েকটি ম্যাচ তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠেছেন জেমি ম্যাকলারেন। ওড়িশার বিরুদ্ধে তাঁকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপুইয়াও সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে পুরোপুরি ম্যাচ খেলার মতো ফিট হতে তাঁর আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে এই ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
মরশুমের শুরু থেকেই মোহনবাগান শিবিরে চোটের সমস্যা বেশ ভোগাচ্ছে। দেজান দ্রাজিচ, আলবার্তো রডরিগেজদেরও মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রেফারিদের দিকেই আঙুল তুলেছেন দিলেমপেরিস। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। বিপজ্জনক ট্যাকলের বিরুদ্ধে রেফারিরা ব্যবস্থা না নিলে ফুটবলাররা আরও কঠিন ট্যাকল করতে উৎসাহিত হবে। তাতে চোটের আশঙ্কাও বাড়বে। সাহালের না থাকা যে দলের জন্য বড় ধাক্কা, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মোহনবাগান কোচ।
লিগের দশম স্থানে থাকা ওড়িশার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একাদশে গোলের দায়িত্বে থাকতে পারেন বিশাল কাইথ। রক্ষণে শুভাশিস বসু, আলবার্তো রডরিগেজ, মেহতাব সিং ও অভিষেক সিং। মাঝমাঠে লিস্টন কোলাসো, সমীর জেলকোভিচ, অনিরুদ্ধ থাপা ও মনবীর সিংকে দেখা যেতে পারে। তাঁদের সামনে থাকবেন দ্রাজিচ। একেবারে আক্রমণের সামনের সারিতে লি এরউইন।
লিগের শীর্ষে থাকায় মোহনবাগানের দায়িত্বও বেড়েছে বলে মনে করছেন দিলেমপেরিস। কিন্তু সমস্যা একটাই, ম্যাচে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারছেন না এরউইনরা। কোচ চাইছেন, ওড়িশার বিরুদ্ধে শুরুতেই গোল তুলে নিতে। তাতে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হবে। গোল নষ্টের সমস্যা কাটাতে অনুশীলনে ফিনিশিং এবং মনোযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে পরপর ম্যাচের ধকলের মধ্যে ফুটবলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চান না তিনি। চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন তাঁর লক্ষ্য।




