নিউজ ডেস্ক: সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের এমন পরিণতি দেখতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি ১৮ বছরের মেয়েটি। বাড়ির বারান্দায় ঝুলছে বাবার নিথর দেহ। মাকে ডাকতে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল আরও ভয়াবহ দৃশ্য। বিছানায় পড়ে রয়েছেন মা, কোনও সাড়াশব্দ নেই। একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর এমন রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে।
মৃত দম্পতির নাম সুদেব গোস্বামী (৬০) এবং সোমা গোস্বামী (৫৫)। বসিরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনপুকুর এলাকার ঘটনা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে বাবার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁদের ১৮ বছরের মেয়ে। এরপর মাকে ডাকতে ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখেন, বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সোমাদেবীও। বাবা-মায়ের এমন পরিণতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত আত্মীয়দের খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট থানার পুলিশ।
তবে একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হলেও দু'জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায়। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দু'জনেই আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সমস্যা, নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সবচেয়ে অবাকের বিষয়, পরিবারের সদস্যদের দাবি, দম্পতির মধ্যে কোনও বড় অশান্তি বা সমস্যার কথা তাঁদের জানা ছিল না। মৃত সুদেবের ভাই জানান, সকালে ভাইঝির ফোন পেয়ে তিনি বাড়িতে পৌঁছন। তাঁর কথায়, আগের দিনও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কোনও সমস্যার কথা জানতে পারলে নিশ্চয়ই সমাধানের চেষ্টা করতেন।
প্রতিবেশী মানিক মণ্ডলও জানান, সুদেব ও সোমা দু'জনেই ভালো মানুষ ছিলেন। পাড়ার কারও সঙ্গে তাঁদের কোনওদিন ঝগড়া বা বিবাদ হয়নি। হঠাৎ এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা বুঝতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।
পুলিশ দু'জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। আপাতত বসিরহাটের এই জোড়া মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ছড়িয়েছে গভীর রহস্য।




