স্পোর্টস ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের মাঠে বাউন্ডারি ছোট, বল ব্যাট ছেড়ে বেরোলেই চোখের পলকে পৌঁছে যাচ্ছে সীমানার কাছে। সেখানে ফিল্ডারদের হাতে সময় আরও কম। সামান্য ভুল মানেই চার, কখনও আবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সুযোগ হাতছাড়া। কিন্তু এই কঠিন পরীক্ষাতেও বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা যে ভাবে নিজেদের মেলে ধরেছেন, তার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর অভিজ্ঞতা। ভারতের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষের কথায়, এই দুই তারকার আসল শক্তি তাঁদের পেশির স্মৃতিতে।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে কোহলির দুরন্ত ক্যাচ এবং রোহিতের ক্ষিপ্রতায় রান আউট বিশেষ নজর কেড়েছিল। সেই দুই মুহূর্তের রহস্যই ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের নতুন ফিল্ডিং কোচ। গত অগস্টে দীর্ঘদিনের কোচ টি দিলীপের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন শুভদীপ। তাঁর মতে, একই জায়গায় বছরের পর বছর ফিল্ডিং করার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয়েছে কোহলি ও রোহিতের সহজাত অনুমান করার ক্ষমতা।
শুভদীপ জানিয়েছেন, কোহলি দীর্ঘদিন ধরে কভার ও পয়েন্ট অঞ্চলে ফিল্ডিং করছেন। ফলে বল কোন পথে আসবে, কী ভাবে মাটিতে পড়বে, কোথায় তার গতি বদলাতে পারে—সব কিছুই অনেক আগে বুঝে নিতে পারেন তিনি। অন্যদের তুলনায় পরিস্থিতি দ্রুত পড়তে পারেন কোহলি। রোহিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রথম এক দিনের ম্যাচে রান আউটের সময় বল কোথায় আসতে পারে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন তিনি। অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্বাভাবিক প্রতিভা এবং একই কাজ বারবার করার অভ্যাসই তাঁদের দক্ষ করে তুলেছে বলে মনে করেন কোচ।
তবে শুধু তারকাদের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করছে না ভারতীয় দল। অনুশীলনে ফিল্ডারদের প্রতিক্রিয়ার সময় কমানোর জন্য হালকা বল ব্যবহার করা হচ্ছে। শুভদীপের ব্যাখ্যা, হালকা বল সহজেই শরীর থেকে দূরে সরে যায়। তাই সেটিকে সামলাতে শরীরের ভারসাম্য ও স্থিরতা বজায় রাখা জরুরি। এই বিষয়গুলির উপরই বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে অনুশীলনে।
নিউজিল্যান্ডের ছোট মাঠে ফিল্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। সীমানা কাছে থাকায় অনেক সময় আলাদা করে বাউন্ডারি রাইডার রাখার সুযোগ থাকে না। প্রায় প্রত্যেককেই ভেতরের বৃত্তে থাকতে হয়। ফলে বলের দিকে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়। প্রথম ম্যাচে ভারতীয় ফিল্ডারদের পারফরম্যান্সে খুশি শুভদীপ। ক্যাচ ধরা, মাটিতে ফিল্ডিং এবং দলের সামগ্রিক তীব্রতা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতি দেখেছেন তিনি। ক্যাচ পড়ে যাওয়া ক্রিকেটের অঙ্গ হলেও প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন কোচ।
টানা ক্রিকেটের ধকল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি সফরের শেষে রয়েছে দুই টেস্টের সিরিজ। তবে শুভদীপের মতে, শারীরিক চাপ থাকলেও ক্রিকেটাররা এমন সূচিতে অভ্যস্ত। আসল বিষয় মানসিক প্রস্তুতি। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে মহম্মদ সিরাজ খেলবেন কি না, সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তিনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের পরিচালন সমিতি।




