স্পোর্টস ডেস্ক: একজনের ব্যাটে শতরান উঠলেই অন্যজনকে শুনতে হয় কটাক্ষ। ক্রিকেটের মাঠে নয়, সমাজমাধ্যমে এমনই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সময় থেকেই এই বিদ্রুপের শিকার তিনি। কারণ, কেকেআর যখন তাঁকে ধরে রেখে শুভমন গিলকে ছেড়ে দিয়েছিল, তখন থেকেই দলের একাংশের সমর্থকের নিশানায় ভেঙ্কটেশ। এখনও শুভমন শতরান করলেই সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে ফিরে আসে।
২০২২ সালের আইপিএলের আগে শুভমনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেকেআর। পরে গুজরাত টাইটান্স তাঁকে ৮ কোটি টাকায় দলে নেয়। হার্দিক পান্ডিয়া ও রশিদ খানের সঙ্গে শুভমনও ছিলেন নতুন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কিন্তু কেকেআরের সেই সিদ্ধান্তের দায় যেন এখনও বইতে হচ্ছে ভেঙ্কটেশকে। আকাশ চোপড়ার সঙ্গে আসন্ন ‘বৈঠক অ্যান্ড বল’ অনুষ্ঠানের এক ঝলকে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ভেঙ্কটেশের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ঘৃণা ও বিদ্রুপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এখনও শুভমন শতরান করলে কেকেআরের সমর্থকদের পাতায় মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। সেখানে লেখা হয়, “সোনা খুঁজতে গিয়ে হিরে হারিয়েছি।” অর্থাৎ, ভেঙ্কটেশকে ধরে রাখতে গিয়ে শুভমনকে ছেড়ে দেওয়াই ছিল কেকেআরের বড় ভুল—এমনটাই বোঝাতে চান সমর্থকদের একাংশ। এই মন্তব্য যে তাঁকে কতটা আঘাত করে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
শুধু পুরনো বিতর্ক নয়, ২০২৬ সালের নিলামের আগে কেকেআর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ভেঙ্কটেশের কাছে ছিল আবেগের। এর আগে ২০২৫ সালের নিলামে তাঁকে ২৩.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে ফিরিয়ে নিয়েছিল কলকাতার দল। কিন্তু পরের মরশুমের আগে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, নিলামের আগে তিনি শাহরুখ খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটাও জানতে চেয়েছিলেন। পাশে একটি রুমাল রেখে অপেক্ষা করছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত কেকেআর নয়, ভেঙ্কটেশের ঠিকানা হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল তাঁকে দলে নেয়। নতুন দলের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। ভেঙ্কটেশের কথায়, ম্যাচের আগে সমর্থকদের কেউ কেউ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের জার্সি পর্যন্ত পুজো করেন। এমন আবেগ আগে কখনও দেখেননি তিনি।
শুরুর দিকে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও পরে প্রভাবশালী পরিবর্ত হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। ১৫ বলে অপরাজিত ২৯ রান করে দলকে ২০১ রানে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন। যদিও সেই ম্যাচে হারতে হয়েছিল বেঙ্গালুরুকে। পরে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ৪০ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সাত ম্যাচে ৫২.২৫ গড়ে ২০৯ রান করে মরশুম শেষ করেন ভেঙ্কটেশ। আর তাঁর দল বেঙ্গালুরু জেতে টানা দ্বিতীয় আইপিএল খেতাব। তবু শুভমনের শতরান এলেই পুরনো কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।




