নিউজ ডেস্ক: কৃষ্ণবর্ণ শরীর, এলোমেলো কেশরাশি, গলায় নরমুণ্ডের মালা, হাতে খড়্গ,দেবী কালীর এই ভয়ংকর রূপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা। কিন্তু কীভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন মা কালী? কেনই বা দুর্গার কপাল থেকে জন্ম নিয়েছিল তাঁর এই ভয়ংকর রূপ? এর উত্তর রয়েছে মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত দেবীমাহাত্ম্যে।
পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অসুর স্বর্গরাজ্য দখল করে দেবতাদের বিতাড়িত করেছিল। অসুরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা আদ্যাশক্তির শরণাপন্ন হন। তাঁদের প্রার্থনায় আবির্ভূত হন দেবী অম্বিকা। তাঁকে নিজেদের অধীনে আনতে চায় অসুররাজ শুম্ভ। কিন্তু দেবী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। শুরু হয় ভয়ংকর যুদ্ধ।
এই সময় চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুর বিশাল বাহিনী নিয়ে দেবীকে আক্রমণ করে। তাদের দেখে ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে দেবী অম্বিকার মুখমণ্ডল। ঠিক তখনই তাঁর ভ্রূকুটিযুক্ত কপাল থেকে আবির্ভূত হন এক ভয়ংকরী কৃষ্ণবর্ণা দেবী। তিনিই মহাকালী। মুহূর্তের মধ্যে অসুরবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন তিনি। এই কারণে দেবী চামুণ্ডা নামেও পরিচিত হন।
এরপর যুদ্ধে আসে রক্তবীজ। তার শরীরের রক্ত মাটিতে পড়লেই জন্ম নিত নতুন অসুর। তখন দেবী চণ্ডিকার নির্দেশে কালী রক্তবীজের রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই পান করতে থাকেন। এভাবেই শেষ পর্যন্ত বিনাশ হয় রক্তবীজের।
দেবী কালীর কৃষ্ণবর্ণ অসীম মহাজাগতিক শক্তি ও কালের প্রতীক। তাঁর হাতে খড়্গ অশুভ ও অজ্ঞানতার বিনাশের বার্তা বহন করে। ভয়ংকর রূপের আড়ালেই তিনি ভক্তদের কাছে স্নেহময়ী জননী।
শাক্ত বিশ্বাসে দুর্গা, কালী ও চণ্ডী একই আদ্যাশক্তির বিভিন্ন প্রকাশ। কখনও তিনি স্নেহময়ী মা, আবার কখনও অসুরবিনাশী মহাকালী। তাই দেবীর ভয়ংকর রূপ আসলে অশুভ শক্তির কাছে আতঙ্ক, আর ভক্তদের কাছে নির্ভরতা ও আশ্রয়ের প্রতীক।
দুর্গার কপাল থেকে কীভাবে আবির্ভাব মা কালীর? জানুন মহাকালীর জন্মের পৌরাণিক কাহিনি

Related News

‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ আর নয়! নৈহাটির বড়মার মন্দিরে বদলে গেল পরিচিত বার্তা, ন...
নৈহাটির বড়মার মন্দিরে বদলে গেল দীর্ঘদিনের পরিচিত ট্যাগলাইন। ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’-এর পরিবর্তে নতুন বার্তা ‘বড় মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি’। কেন এই সিদ্ধান্ত? মন্দির কমিটির তরফে জানানো হল পরিবর্তনের কারণ।
০৬ নভে ২০২৬, ০১:২৭ পিএম · 2 মিনিট
কে ছিলেন গোপাল পাঁঠা? তাঁর কালীপুজোর আড়ালে লুকিয়ে অজানা ইতিহাস!
সের দোকান থেকে কালী আরাধনা, অস্ত্রপুজো থেকে অলৌকিক লোককথা—গোপাল পাঁঠার কালীপুজোর আড়ালে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়।
০৬ নভে ২০২৬, ১১:২১ এএম · 2 মিনিট
রঘু-বুধো ডাকাতের রক্তাক্ত ইতিহাস বুকে আজও জাগ্রত ত্রিবেণীর ৫০০ বছরের ডাকাত কালীমন্...
একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দির ছিল রঘু ও বুধো ডাকাতের আরাধনাস্থল। কথিত আছে, এখানে একসময় নরবলির প্রথাও প্রচলিত ছিল। আজও ছাগবলি, বিশেষ ভোগ ও প্রাচীন শাক্তাচারের মধ্য দিয়ে বেঁচে রয়েছে ত্রিবেণীর বুধো ডাকাতের কালীমন্দিরের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য।
০৫ নভে ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম · 4 মিনিট
রাজার অনুশোচনা, স্বপ্নাদেশ আর কষ্টিপাথরের বিগ্রহ! শেওড়াফুলির নিস্তারিণী মন্দিরের...
নিউজ ডেস্ক: স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ হল রাজার। তিনি ভাবলেন স্ত্রী সর্বমঙ্গলা অন্য পুরুষের প্রতি অনুরক্ত। আর তাই স্ত্রীকে হত্যা করলেন তিনি। তারপরই মনের ভেতর দ্বন্দ্ব শুরু হল তাঁর। শান্তি,ঘুম সবকিছুই তলানিতে ঠেকল তাঁর। অবশেষে ...
০৫ নভে ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম · 3 মিনিটTop Comments (0)
No approved comments yet.