নয়াদিল্লি: মণিপুরের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ নেতাকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার দক্ষিণ দিল্লিতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত ব্যক্তি মণিপুরের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র নেতা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) অধীনে মামলা রয়েছে। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মণিপুরের থৌবল জেলার সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি ইউএপিএ মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজ করছিলেন তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে তাঁর গোপন আস্তানার সন্ধান মেলে। এরপরই দক্ষিণ দিল্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।
তবে তদন্তের স্বার্থে ধৃতের নাম এবং বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনেনি দিল্লি পুলিশ। অপরাধদমন শাখার ডেপুটি কমিশনার হর্ষ ইন্দোরা জানিয়েছেন, গ্রেফতারির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দিল্লিতে কোনও নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ওই ব্যক্তি আসেননি। তবে রাজধানীতে কী উদ্দেশ্যে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ মণিপুরের একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন। মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এই সংগঠনটি ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম মণিপুর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষ উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটির সন্ধান— একাধিক বিষয়ে নজরদারি চলছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতেই ওই জঙ্গিনেতা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে রাজধানী বা অন্য কোনও রাজ্যের জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।




