নিউজ ডেস্ক: কলকাতার কালীপুজোর ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের ঘিরে আজও কৌতূহলের শেষ নেই। তেমনই এক নাম গোপাল পাঁঠা। একদিকে দাপুটে ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে গভীর কালীভক্তি। কিন্তু কে ছিলেন এই গোপাল পাঁঠা? কেনই বা তাঁর কালীপুজোকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এত রহস্য আর লোককথা?
কে ছিলেন গোপাল পাঁঠা?
তাঁর আসল নাম গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। বাড়ি ছিল কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেনে। পরিবারের পাঁঠার মাংসের ব্যবসা থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘পাঁঠা’ শব্দটি। ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তাঁর ভূমিকা তাঁকে ইতিহাসের আলোচনায় নিয়ে আসে। কারও কাছে তিনি ছিলেন রক্ষাকর্তা, আবার কারও চোখে কলকাতার দাপুটে বাহুবলী। তাঁর জীবন ঘিরে বিতর্কও কম ছিল না।
কালীপুজোর শুরু কীভাবে?
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে নিজের মাংসের দোকানে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গোপাল। পরে ১৯৩৭ সালে তাঁর কাকা, বিপ্লবী অনুকূলচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শুরু হয় বিশেষ বারোয়ারি কালীপুজো। এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল অস্ত্রপুজো, বিশাল অন্নকূট এবং তরবারি হাতে বিসর্জনের শোভাযাত্রা। একসময় সেই আয়োজন দেখতে ভিড় জমাতেন অসংখ্য মানুষ।
কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে পুজোয়?
গোপাল পাঁঠার কালীপুজো ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এক আশ্চর্য লোককথা। কথিত আছে, একবার অন্নকূটের শেষে এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রসাদ চাইতে আসেন। খাবার আনতে গিয়ে ফিরে দেখেন, সেই ব্যক্তি উধাও! লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পরে স্বপ্নে দেবী কালী তাঁকে জানান, তিনি নিজেই প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন। যদিও এই ঘটনার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, ভক্তদের কাছে আজও এটি এক অলৌকিক কাহিনি।
আজও বেঁচে রয়েছে ঐতিহ্য
গোপাল পাঁঠা আজ আর নেই। কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালী আরাধনার ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে। উত্তরসূরিরা নিয়মিত পুজো করেন। প্রতি বছর কালীপুজোয় নতুন প্রতিমা প্রতিষ্ঠার রীতিও বজায় রয়েছে। কলকাতার ইতিহাসে তাই গোপাল পাঁঠার কালীপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এক বিস্মৃত সময়ের জীবন্ত স্মৃতি।




