স্পোর্টস ডেস্ক: ৪১ বছর বয়সেও ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা ভাবেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ২০২৬ বিশ্বকাপের পরেও পর্তুগালের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণটাই বদলে গেল। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সংঘাত এবং দলে নিজের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই কি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন পাঁচ বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী? ফুটবল মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে।
আসলে রোনাল্ডোর অবসরের সিদ্ধান্ত যতটা আকস্মিক মনে হচ্ছে, ভিতরে ভিতরে তার ইঙ্গিত নাকি অনেক দিন ধরেই ছিল। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর জাতীয় দলে তাঁর জায়গা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলির জন্য পর্তুগালের দলে তাঁকে ফেরানোর দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি কোচ। সিদ্ধান্তটা রোনাল্ডোর উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছিল, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, পর্তুগালের প্রথম একাদশে রোনাল্ডোর জায়গা আর নিশ্চিত নয়।
আর সেটাই মেনে নিতে পারেননি ৪১ বছরের মহাতারকা। কেরিয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম একাদশে নিজের জায়গা নিয়ে আপস করেননি তিনি। ক্লাব ফুটবলেও এমন সংঘাতের নজির রয়েছে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের দ্বিতীয় পর্বে এরিক টেন হ্যাগের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল। কোচের কৌশল এবং দলের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে খেলতে চাওয়ার প্রশ্নে দু’পক্ষের দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
তবে রোনাল্ডোর কেরিয়ারকে শুধু একগুঁয়েমির গল্প বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না। সময়ের সঙ্গে নিজের খেলার ধরন বদলেছেন তিনি। এক সময় বাঁ দিক থেকে আক্রমণে উঠে আসতেন। পরে নিজেকে তৈরি করেছেন মাঝখানের স্ট্রাইকার হিসেবে। বয়স বাড়লেও গোল করার দক্ষতা এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ৪১ বছর বয়সে এসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে তাঁর পুরনো কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
জাতীয় দলের কোচদের সঙ্গেও রোনাল্ডোর সম্পর্কের ওঠাপড়া নতুন নয়। বারবার তাঁর খেলার সময় এবং প্রথম একাদশে জায়গা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এত দিন কোচেরা শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিভার উপরেই আস্থা রেখেছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে।
আসলে রোনাল্ডোর সামনে দুটো পথ ছিল। দলের প্রয়োজনে পরিবর্তিত ভূমিকা মেনে নেওয়া, অথবা নিজের শর্তে সরে দাঁড়ানো। দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছেন তিনি। লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু রোনাল্ডোর বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে অন্য সমীকরণ। নিজের মর্যাদা ও নেতৃত্বের জায়গায় আপস না করার মানসিকতাই কি শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি টানল? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।




