নিউজ ডেস্ক : নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, কবে ঘোষণা হবে ভোটের দিনক্ষণ, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। ঠিক তখনই আইনি জটিলতা নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পুরসভার আসন সংখ্যা এবং সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার পৌঁছেছে আদালতের দরজায়। আর সেই মামলার গতিপ্রকৃতির ওপরেই আপাতত নির্ভর করছে কলকাতার পুরনির্বাচনের ভবিষ্যৎ।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ফলে, আপাতত কলকাতা পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ক্ষেত্রে আইনি বাধা তৈরি হল।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্ত এবং নতুন করে ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। তাঁদের মূল আপত্তি, নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের প্রক্রিয়া এবং তার ভিত্তিতে আসন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। এই মামলার বিচারাধীন অবস্থাতেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশের প্রভাব শুধু কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মামলার কারণে কলকাতা-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে নির্বাচনের পরবর্তী প্রস্তুতি, সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এখন নজর আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। সেই রায়ের ওপরেই নির্ভর করছে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে তৈরি হওয়া জট কাটবে কি না। পাশাপাশি, পুরভোটের প্রস্তুতি কবে থেকে ফের গতি পাবে, তা নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে। আপাতত আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সেই সঙ্গে অপেক্ষায় কলকাতার ভোটাররাও।




