নিউজ ডেস্ক: একটি ছোট্ট চুম্বক, অথচ তার জেরেই প্রাণ সংশয় ছ’বছরের শিশুর! ফুসফুসের শ্বাসনালিতে আটকে থাকা সেই চুম্বক বের করতে শেষ পর্যন্ত চুম্বকেরই সাহায্য নিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা। অভিনব এই অস্ত্রোপচারে কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তাঁরা। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার ঘটনা। ৬ বছর বয়সি একটি শিশুর ফুসফুসে আটকে থাকা বড় আকারের চুম্বক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে বের করেছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। এই জটিল অস্ত্রোপচারে অভিনবভাবে আরেকটি বিশেষ চুম্বকের সাহায্যে ওই চুম্বকটি বের করা হয়।
৬ বছরের ওই শিশুটি একটি খেলনার বড় আকারের চুম্বক গিলে ফেলেছিল। সেটি তার ডান দিকের ব্রঙ্কাস অর্থাৎ ফুসফুসের শ্বাসনালিতে আটকে যায়। এর জেরে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে পড়ায় তাকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়। এসএসকেএম-সহ একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার সমাধান মেলেনি। প্রচলিত ব্রঙ্কোস্কোপি ফোর্সেপ বা যন্ত্র দিয়ে চুম্বকটি বের করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ, সেটি পিছলে যাচ্ছিল এবং শক্তভাবে আটকে ছিল।
তবে মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা অবলম্বন করেন এক অভিনব কৌশল। বলা যেতে পারে, চুম্বক দিয়ে চুম্বক উদ্ধার! কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি (ENT) বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় মানিকতলার একটি লেদ কারখানায় যান। সেখানকার কর্মী প্রভাকর কাঁড়ারের সাহায্যে একটি বিশেষ মাপের ছোট, লম্বাটে ও চৌকো আকৃতির, ৩ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করান তিনি।
এরপর শুরু হয় অস্ত্রোপচার। ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের ডা. দেবাশিস ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ চিকিৎসক দল এই অস্ত্রোপচার করেন। তৈরি করা ছোট চুম্বকটি ব্রঙ্কোস্কোপি ফোর্সেপের মাথায় আটকে ফুসফুসের ভিতরে থাকা বড় চুম্বকটিকে আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি, ভোকাল কর্ডের কাছে চুম্বকটি যাতে পিছলে না যায়, সে জন্য ট্র্যাকিওটমি বা গলায় ছোট্ট ছিদ্রপথ তৈরি করে ফোর্সেপের সাহায্যে বড় চুম্বকটি সফলভাবে বের করে আনা হয়।
এই নজিরবিহীন সাফল্যের পর শিশুটির ফুসফুসে স্বাভাবিক বায়ু চলাচল ফিরে এসেছে। বর্তমানে তাকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। একদিকে চিকিৎসকদের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি, অন্যদিকে এক কারিগরের নিপুণ হাতের কাজ, দুইয়ের মেলবন্ধনেই ফিরল শিশুটির স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস। বিরল এই অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে তৈরি করল এক অনন্য নজির।




