কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম দুর্গাপুজো কাটিয়েছে বঙ্গবাসী। এবার পালা কালী-জগদ্ধাত্রী-ছটপুজো পুজোর। দীর্ঘ ৯ বছর পর কি ফের রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো পালন হবে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো ফেরানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। আর তাতেই আশার আলো দেখছেন সরোবর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় রবীন্দ্র সরোবর। প্রায় ৭৩ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সরোবরে রয়েছে প্রায় ৩৭ একর জল। শীতের মরশুমে দেশ-বিদেশের পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় সরোবরের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিন বহু মানুষও এখানে প্রাতঃভ্রমণ ও অবসর কাটাতে আসেন। সরোবরের আশপাশে বসবাস করেন বহু বিহারী সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের কাছে ছটপুজো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। একসময় রবীন্দ্র সরোবরেই ধুমধাম করে ছটপুজো পালন করা হত।
তবে সরোবরের পরিবেশ ও জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কায় ছটপুজো বন্ধের দাবি ওঠে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT) এবং পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের জেরে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো পালন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে টানা ন’বছর ধরে এই সরোবরে ছটপুজো পালন করা সম্ভব হয়নি।
এবার নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের এই ভাবনাচিন্তায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই তাঁরা পুজো করতে চান। সরোবরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রশাসনের তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হবে, তা মেনে চলতেও তাঁরা প্রস্তুত। তবে শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্র সরোবরের দরজা ছটব্রতীদের জন্য খুলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রশাসনকে। ফলে দীর্ঘ ন’বছর পর রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো ফেরে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।




