নিউজ ডেস্ক: চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হল। শুক্রবার আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন জানান অভিযুক্তের আইনজীবী। তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কুশল মজুমদারকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি কুশল মজুমদার এবং সেন্টু, দু’জনেরই ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের আবেদনে অনুমতি দিয়েছে আদালত। রাজ্যের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল নথি দেওয়ার আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে।
ঘটনার পর একটি চিঠি লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন কুশল। পরে গিরিশ পার্ক থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তদন্তকারীদের কাছে কুশল জানিয়েছিলেন, পুলিশের তরফে তাঁকে মণ্ডপের পরিস্থিতি খারাপ বলে ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল। ঘটনার দিন মাইকে সেই ঘোষণাও করেছিলেন তিনি। এদিন অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে জানান, ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সেই নমুনা সংগ্রহের জন্য অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। দুর্গাপুজোর বাজেট, খরচের হিসাব, এলাকার ম্যাপ, নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টনের নথি, স্পেশাল কন্টিনজেন্সি প্ল্যান, বিমার কাগজপত্র, আলো লাগানোর অনুমতি এবং কলকাতা পুলিশের ‘সহজ’ পোর্টাল থেকে নেওয়া অনুমতিপত্র ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। নতুন করে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা অর্থাৎ BNS ১০৫-এর আওতায় কুশলের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। আগে থেকে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানতেন, এমন কোনও তথ্যও নেই।
অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন। বাকি আটজনের আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত রয়েছে। সেন্টু ও কুশলের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, মণ্ডপের প্রবেশপথে অতিরিক্ত লোক ঢোকানো, বেরনোর পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং সরু রাস্তা তৈরি করার মতো ঘটনায় অভিযুক্তদের সরাসরি যোগ ছিল। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল নথি চেয়েছে রাজ্যের তৈরি সিট। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয় বলেও আদালতে সওয়াল করেন তিনি।
গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর দিন চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯ জন। অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্স। ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান এলাকার পরিস্থিতি এবং পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার চোরবাগান কাণ্ডে ধৃত কুশল মজুমদারকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




