নিউজ ডেস্ক: একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই বিতর্ক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে দেশের বিচার বিভাগের অন্দরেও। সমাজ মাধ্যমে করা একটি পোস্ট ঘিরে ওঠে তীব্র সমালোচনার ঝড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি পোস্ট মুছে ফেলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল। কিন্তু, তাতেও যে বিতর্কের ইতি টানতে রাজি নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত, তা স্পষ্ট হয়ে গেল সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় নয়, বরং এটি পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”
প্রধান বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের পরই ১২ অক্টোবর কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (KPCC) সরকারি এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করা হয়। সেখানে সূর্যকান্তকে সরাসরি নিশানা করে লেখা হয়, আইনশৃঙ্খলা যদি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে তাহলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। এমনকি, তাঁর জায়গায় পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন এমন কাউকে আনার কথাও বলা হয়।
পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য বিচার বিভাগের মর্যাদাকে আঘাত করে। বিতর্কের মুখে পোস্টটি মুছে ফেলে কেরল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্ব জানায়, শীর্ষ নেতৃত্বের অজান্তে এক কর্মী ওই পোস্ট করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাও চাওয়া হয়।
কিন্তু, তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ৬ নভেম্বর, বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরও স্পষ্ট ভাবে বলা হয়," সংবিধানই সর্বোচ্চ। কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠন তার ঊর্ধ্বে নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয় নয়। এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা এই প্রজাতন্ত্র এবং দেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ।"
আদালতের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক মর্যাদার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করতে নারাজ শীর্ষ আদালত। বাকস্বাধীনতার অধিকার ব্যবহার করে বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব খাটো করা বা বিচারপতিদের ভয় দেখানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত। ফলে, ক্ষমা চাওয়ার পরেও কেরল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।




