হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশের দক্ষিণের জেলা খুলনা সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দেয়ালচিত্র আঁকিয়েছিল খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এসব দেয়ালচিত্রে স্থান পেয়েছেন দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। তবে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতির মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকৃতিটির পাশে সাঁটানো হয়েছে কয়েকটি পোস্টার। এসব পোস্টারের বক্তব্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত; ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা আকাডেমির সামনের সড়কটি দৃষ্টিনন্দন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সেখানের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশের জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নূল আবেদিনসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের গ্রাফিতি করেন। কিন্তু কয়েকদিন পর অর্থাৎ ১০ অক্টোবর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়া হয়েছে। এ
নিয়ে সবখানে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
এই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ চারজনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন মহিলাও ছিল। পরে শাহবাগ থানা থেকে তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে খুলনার শিববাড়ী মোড়ের দেয়ালে দেখা যায়- আঁকা বিভিন্ন মনীষীর গ্রাফিতি অক্ষত থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিতিটির মাথার কাছে লাগানো রয়েছে দুটি পোস্টার। সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা হয়েছে। একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম পূর্ব বাংলায় বিদেশির ঠাঁই নাই, ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই।’তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রাফিতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৃহস্পতিবার খুলনা সফর উপলক্ষে কেসিসির উদ্যোগে আঁকা এসব দেয়ালচিত্র ইতিমধ্যে নগরবাসীর প্রশংসার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন আকর্ষণ করেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে এসব চিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়েও দিচ্ছেন। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে
স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।




