নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মিরপুরের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে আশুলিয়া ও সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এখনও উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, মাসিক ন্যূনতম বেতন ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে খাবার, বাড়িভাড়া, রান্নার গ্যাস ও পরিবহণের ব্যয় বাড়লেও তাঁদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বিক্ষোভের পর ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের বেতন বোর্ড গঠন করে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার প্রথম বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বেতন পাওয়ার কথা শ্রমিকদের। তবে বেতন কতটা বাড়বে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গাজিপুরে প্রায় সমস্ত পোশাক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। শিল্প পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, জেলার ৯৯.৯৯ শতাংশ কারখানা সচল রয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
অন্যদিকে, আশুলিয়া ও সাভারে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জামগড়া এলাকায় শ্রমিকদের জমায়েত এবং আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকায় দুটি কারখানার গেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। এই দুই শিল্পাঞ্চলের মোট ১,৮৬৩টি কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানায় সতর্কতামূলক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ সরকার। ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে, শ্রমিক বিক্ষোভকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই হয়নি। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রমিকদের দাবির সমাধানের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ কর্মরত। দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই শিল্প থেকে। ফলে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক সরবরাহ এবং দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।




