নিউজ ডেস্ক: বিলাসবহুল গাড়ির কাচ নামাতেই নাকে এল তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ। সিটের ওপর তখন নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে এক ব্যক্তির ফুলেফেঁপে ওঠা পচাগলা দেহ। বৃহস্পতিবার সকালে খাস কলকাতার কসবার রাজডাঙা নারকেল বাগান এলাকার এক গ্যারেজে এই দৃশ্য দেখে কার্যত শিউরে উঠলেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। রহস্যজনক এই মৃত্যুর কিনারা করতে আসরে নেমেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও হোমিসাইড শাখা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজডাঙা মেইন রোড সংলগ্ন নারকেল বাগানের ওই গ্যারেজে বেশ কিছু দিন ধরেই একটি নামী সংস্থার অডি গাড়ি পার্ক করা ছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই এলাকা জুড়ে এক অসহ্য পচা গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। প্রথমটায় পথচলতি মানুষ বিষয়টিকে নালা বা আবর্জনার গন্ধ বলে এড়িয়ে গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধের তীব্রতা চরমে পৌঁছায়। উৎস খুঁজতে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ গিয়ে পড়ে গ্যারেজে রাখা গাড়িটির ওপর। জানলার কাচ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ভেতরে নজর করতেই চোখ কপালে ওঠে স্থানীয়দের। কালবিলম্ব না করে খবর পাঠানো হয় কসবা থানায়।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় কসবা থানার বাহিনী। গাড়ির লক খুলে ভেতরে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ। চালকের পেছনের সিটের কাছে পড়ে ছিল এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। পরিস্থিতি এতটাই বিকৃত যে প্রাথমিকভাবে নিহতের বয়স বা পরিচয় কোনোটিই আন্দাজ করা যায়নি।
খবরের গুরুত্ব আঁচ করে ঘটনাস্থলে যান লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা ও শীর্ষ পুলিশকর্তারা। ডাকা হয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও। গাড়ির হাতল, স্টিয়ারিং ও জানলার কাচ থেকে একাধিক আঙুলের ছাপ ও অন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দেহটি অন্তত দিন তিনেক ধরে গাড়ির ভেতরেই ছিল। কিন্তু এটি কি নিছকই আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোথাও শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহ লোপাট করতে এই নির্জন গ্যারেজকে বাছা হয়েছিল? প্রশ্ন উঠছে গাড়ির মালিকানা নিয়েও। গাড়িটি কার নামে নথিবদ্ধ, কারা এটি এখানে এনে রেখে গেল, তা জানতে গ্যারেজের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গাড়ির আনাগোনার সময় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে ঠিক কী ঘটেছিল।




