নিউজ ডেস্ক: আজ ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস। দীপাবলির আগে এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ। কোথাও সোনা-রুপো কেনার প্রস্তুতি, কোথাও আবার লক্ষ্মী-কুবের পুজোর আয়োজন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এই দিনে নতুন জিনিস কেনার পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলারও প্রচলন রয়েছে। কথিত আছে, ধনতেরাসে কয়েকটি কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। প্রচলিত বিশ্বাসে সেগুলিকে অশুভ বলে মনে করা হয়। জেনে নিন সেই ৫টি কাজ সম্পর্কে।
১. সন্ধেবেলা বাড়ি অন্ধকার করে রাখবেন না
ধনতেরাসে সন্ধ্যার সময় বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, আলোর মাধ্যমে দেবী লক্ষ্মীকে স্বাগত জানানো হয়। তাই এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির প্রবেশদ্বার ও ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধেবেলা বাড়ি অন্ধকার করে রাখা শুভ নয়।
২. কাউকে অপমান বা অসম্মান করবেন না
ধনতেরাসকে শুভ ও মঙ্গলময় দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এই দিনে কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, ঝগড়া কিংবা অশান্তিতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরিবারের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. বাড়ি অপরিষ্কার রাখবেন না
দীপাবলির আগে বাড়িঘর পরিষ্কার করার রীতি বহুদিনের। ধনতেরাসেও বাড়ির প্রতিটি কোণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, পরিচ্ছন্ন ও সাজানো বাড়িতে দেবী লক্ষ্মীর আগমন ঘটে। তাই বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৪. সন্ধেবেলায় কাউকে টাকা ধার দেবেন না
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা বাড়ি থেকে অর্থ বের করে দেওয়া এড়িয়ে চলেন অনেকে। মনে করা হয়, এই দিনে অর্থ বাইরে চলে গেলে সংসারের আর্থিক সমৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এটি মূলত ধর্মীয় ও পারিবারিক বিশ্বাসের অংশ।
৫. নেশা ও আমিষ খাবার এড়িয়ে চলুন
ধনতেরাসে অনেকে উপবাস বা সংযম পালন করেন। পুজোর দিনটিকে পবিত্র রাখতে মদ্যপান, নেশা এবং আমিষ খাবার এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে বহু পরিবারে। তবে এ বিষয়ে পারিবারিক ও আঞ্চলিক রীতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
ধনতেরাসে কী করবেন?
এই দিনে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখুন, সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালান, দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের ও ধন্বন্তরির পুজো করুন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন কিছু কিনতে পারেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিন।
মনে রাখতে হবে, এই পাঁচটি নিয়ম মূলত প্রচলিত ধর্মীয় ও পারিবারিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। এগুলি না মানলে অমঙ্গল ঘটবে, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ধনতেরাসের মূল বার্তা হল সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনায় উৎসবকে আপন করে নেওয়া।




