নিউজ ডেস্ক:আজ ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস। আলোর উৎসব দীপাবলির সূচনা হয় এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করেই। ধনতেরাস মানেই সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনার ধুম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বাংলাতেও এই দিনটিতে কেনাকাটাকে ঘিরে উৎসাহ চোখে পড়ে। বিশেষ করে সোনা ও রুপোর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। তবে প্রশ্ন হল, ধনতেরাসে কেন সোনা-রুপো কেনার এত প্রচলন? এর পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় বিশ্বাস।
ধনতেরাসের পৌরাণিক কাহিনি
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় সমুদ্রের গর্ভ থেকে উঠে এসেছিলেন ভগবান ধন্বন্তরি। তাঁর হাতে ছিল অমৃতের কলস। আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবে পূজিত হন তিনি। বিশ্বাস করা হয়, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধন্বন্তরির আবির্ভাব হয়েছিল। সেই থেকেই দিনটির নাম ধনত্রয়োদশী বা ধনতেরাস। এই দিন ধন্বন্তরির পুজো করলে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু লাভ হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
কেন সোনা-রুপো কেনার রীতি?
ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির কামনা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সোনা, রুপো কিংবা নতুন ধাতব পাত্র কেনা শুভ। মনে করা হয়, ধনতেরাসে ঘরে নতুন ধাতব সামগ্রী আনলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের আগমন ঘটে। সোনা ও রুপোকে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ এবং ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই যুগ যুগ ধরে ধনতেরাসে মূল্যবান ধাতু কেনার রীতি চলে আসছে।
জড়িয়ে রয়েছে রাজা হিম ও তাঁর পুত্রের কাহিনিও
ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িত আরও একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। কথিত আছে, রাজা হিমের পুত্রের জন্মকুণ্ডলীতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে বিয়ের চতুর্থ রাতে সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী স্বামীকে বাঁচানোর পরিকল্পনা করেন। নির্দিষ্ট রাতে তিনি ঘরের দরজার সামনে সোনা-রুপোর গয়না ও প্রচুর প্রদীপ সাজিয়ে রাখেন। এরপর স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে গান ও গল্পের আসর বসান।
কথিত আছে, যমরাজ সাপের রূপ ধরে রাজপুত্রের প্রাণ নিতে এলে সোনা-রুপোর ঝলকানি এবং প্রদীপের আলোয় তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। ফলে তিনি ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। এভাবেই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান রাজপুত্র। এই কাহিনির সঙ্গে ধনতেরাসে প্রদীপ জ্বালানো এবং সোনা-রুপো কেনার প্রচলিত বিশ্বাসের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ বলে মনে করা হয়?
শুধু সোনা-রুপো নয়, ধনতেরাসে পিতল, তামা ও অন্যান্য ধাতুর বাসন কেনারও প্রচলন রয়েছে। অনেকে আবার ঝাঁটা, নতুন গাড়ি কিংবা বাড়ির প্রয়োজনীয় সামগ্রীও কেনেন। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সোনা ও রুপোকে। পাশাপাশি সন্ধ্যায় যমরাজের উদ্দেশে প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও পালন করেন অনেকে।
ধনতেরাস তাই কেবল কেনাকাটার উৎসব নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধির কামনায় পালিত এক বিশেষ ধর্মীয় দিন। পৌরাণিক বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনেই বছরের পর বছর ধরে এই উৎসবের গুরুত্ব অটুট রয়েছে।




