নিউজ ডেস্ক: আজ ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস। দীপাবলির পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের সূচনা হয় এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে। ধনতেরাসে সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনার পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ধন্বন্তরির পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে নিয়ম মেনে দেবদেবীর আরাধনা করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তাই সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। কিন্তু কখন করবেন লক্ষ্মী-কুবের পুজো? কী কী নিয়ম মেনে করতে হবে আরাধনা?
ধনতেরাস ২০২৬-এ পুজোর শুভ মুহূর্ত কখন?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর শুক্রবার পালিত হচ্ছে ধনতেরাস। কলকাতার সময় অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি শুরু হয়েছে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ৭ নভেম্বর, শনিবার সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে।
দৃক পঞ্চাঙ্গের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় ধনতেরাসে লক্ষ্মী-কুবের পুজোর শুভ সময় বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ পুজোর জন্য সময় পাওয়া যাবে ১ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট। অন্যদিকে, প্রদোষকাল থাকবে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তবে শহর ও অঞ্চলভেদে পুজোর শুভ মুহূর্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে।
কীভাবে করবেন লক্ষ্মী-কুবের পুজো?
ধনতেরাসের দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন। এরপর বাড়ির পুজোর জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটি চৌকির উপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান কুবেরের মূর্তি অথবা ছবি স্থাপন করুন। পরিবারের রীতি অনুযায়ী ভগবান গণেশ ও ধন্বন্তরির পুজোও করতে পারেন।
প্রথমে প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ, ফুল, চন্দন, ফল, মিষ্টি ও নৈবেদ্য অর্পণ করুন। এরপর দেবী লক্ষ্মী, গণেশ এবং কুবেরের উদ্দেশে প্রার্থনা করুন। অনেক বাড়িতে এই দিন নতুন কেনা সোনা, রুপো কিংবা বাসনপত্রও পুজোর জায়গায় রাখা হয়। পুজো শেষে আরতি করে পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনা করা হয়।
পুজোয় কী কী সামগ্রী প্রয়োজন?
লক্ষ্মী-কুবের পুজোর জন্য সাধারণত ফুল, মালা, ধূপ, প্রদীপ, ঘি, চন্দন, সিঁদুর, আতপ চাল, হলুদ, ফল, মিষ্টি, পান-সুপারি ও নৈবেদ্য রাখা হয়। পাশাপাশি দেবদেবীর সামনে নতুন ধাতব পাত্র বা সোনা-রুপোর সামগ্রীও রাখতে পারেন। তবে পুজোর সামগ্রী ও পদ্ধতি পরিবার এবং আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী কিছুটা আলাদা হতে পারে।
ধনতেরাসে যমদীপ জ্বালানোর নিয়ম
ধনতেরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যমদীপ দান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির প্রধান দরজার বাইরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। একে যমরাজের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদন বলা হয়। পরিবারের সদস্যদের অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর করা এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় এই রীতি পালন করেন অনেকে।
কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধনতেরাস?
ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমুদ্র মন্থনের পৌরাণিক কাহিনি। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান ধন্বন্তরি। অন্যদিকে, দেবী লক্ষ্মীকে সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক এবং কুবেরকে ধনসম্পদের অধিপতি হিসেবে পুজো করা হয়। তাই এই দিনে তাঁদের আরাধনার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি ও পারিবারিক সুখ কামনা করেন ভক্তরা।
সব মিলিয়ে, ধনতেরাস শুধুমাত্র সোনা-রুপো কেনার উৎসব নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনারও বিশেষ দিন। তাই কেনাকাটার পাশাপাশি নিয়ম মেনে পুজো ও প্রদীপ দানের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করবেন বহু মানুষ।




