বেলেঘাটায় নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ দেখতে গিয়ে খুনের উদ্দেশ্যেই কি হামলার শিকার হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ? তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নতুন করে এবার সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কুণালের দাবি, কাজের অগ্রগতি দেখতে যাওয়ার সময় বাইক বাহিনী দিয়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর গাড়ির কাচ ভাঙচুর এবং হাতুড়ি দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। এমনকী গুলি চালানোরও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তারক্ষীকে রিভলবার বের করতে হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। কুণালের কথায়, “আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।”
হামলার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কিন্তু সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, এত বড় ঘটনার পরেও এখনও কোনও অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়নি। সরাসরি বেলেঘাটা থানার ওসি অরিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পুলিশের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন কুণাল।
বর্তমানে বিচারপতি আইপি মুখোপাধ্যায়ের কাছে এই মামলার শুনানি চলছে। কমিশনের নির্দেশে বেলেঘাটা থানার পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, রিপোর্টে শুধু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্তে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
পুলিশের রিপোর্টকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “এই রিপোর্ট অত্যন্ত শিশুসুলভ এবং ভেক রিপোর্ট।” তাঁর দাবি, মানবাধিকার কমিশনও রিপোর্টের অসম্পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আটকাতে ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এবার বেলেঘাটা থানার ওসির বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের দাবি তুলেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, “ওসির বিরুদ্ধে সঠিক ফোরামে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” কলকাতা পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর তদন্তের দাবি জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে সিবিআই ও ইডি তদন্তের দাবিও তুলবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা।
অন্যদিকে দেখলে পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টের প্রতিলিপি কুণাল ঘোষকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন। সেই রিপোর্টের বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্য জানানোর সুযোগও পেয়েছেন তিনি। এখন নজর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দিকে।




