নিউজ ডেস্ক: আকাশছোঁয়া প্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দেওয়ার রেষারেষি উৎসবের চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু সেই চোখধাঁধানো জাঁকজমকের পরিণতি যে কতখানি করুণ ও অমর্যাদাকর হতে পারে, তা ফের একবার প্রকাশ্যে এল সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। বিসর্জনের সময় হাইড্রোলিক ক্রেন থেকে পড়ে বিশালাকার এক দেবমূর্তির ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েক তলার সমান উঁচু এক প্রতিমাকে নিরঞ্জনের জন্য সমস্যা হচ্ছিল। ফলে এক ব্যক্তি প্রতিমার ওপর দাঁড়িয়ে, বাঁশ দিয়ে ভেঙে প্রতিমাটি নিরঞ্জনের চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক নেটিজেনলা প্রশ্ন তুলেছেন,যার আরাধনায় এত খরচ আর আয়োজন, তাকেই যদি শেষপর্যন্ত এভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হতে হয়, তবে তা কি ধর্মের অবমাননা নয়? যে বিগ্রহকে সসম্মানে বিদায় জানানোর সামর্থ্য আয়োজকদের নেই, কেন লোকদেখানো প্রতিযোগিতায় নেমে তার উচ্চতা আকাশছোঁয়া করা হবে?
ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের দাবি, পুজো কখনই মাপকাঠির বা উচ্চতার প্রদর্শনী হতে পারে না। শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার চেয়ে দেখনদারি বড় হয়ে উঠলেই এমন ঘটনা ঘটে। তাই উৎসবের আনন্দ যাতে প্রহসনে পরিণত না হয়, সেজন্য প্রতিমার উচ্চতা ও বিসর্জনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করার সময় এসেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অনেকের মতে, ভক্তি এখন অনেকটাই রূপান্তরিত হয়েছে ‘রেকর্ড গড়ার’ অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। মণ্ডপে ভিড় টানতে কিংবা প্রচারের আলোয় থাকতে কে কত বড় প্রতিমা গড়তে পারেন, তা নিয়েই চলে লড়াই। অথচ সেই বিশালাকার প্রতিমা নিরাপদে নাড়াচাড়া করার আধুনিক প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ কোনোটিরই বালাই থাকে না উদ্যোক্তাদের মধ্যে। ফলে বিসর্জনের ঘাটে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা, ঘটে এমন অনভিপ্রেত বিপর্যয়। এতে যেমন ধর্মীয় ভাবাবেগ ক্ষতবিক্ষত হয়, তেমনই বড়সড় বিপদের মুখে পড়ে সেখানে উপস্থিত থাকা মানুষের জীবনও।