গঙ্গাধরপুর, নিউজ ডেস্ক: ভোরের আলো তখনও ভালো করে ফোটেনি। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। চোখের নিমেষে মাঝখান থেকে ভেঙে কালু নদীর জলে তলিয়ে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ কংক্রিটের সেতুটি। মাত্র পাঁচ বছর আগে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা সরকারি খরচে তৈরি হওয়া সেতুটি ভেঙে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল দুই পঞ্চায়েতের যোগাযোগ। ক্ষোভে ফুঁসছেন আবাদ গঙ্গাধরপুর ও শ্রীনারায়ণপুর-পূর্ণচন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। নদী পারাপারের জন্য এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা কলাগাছের ভেলা বা মান্দাস।
দক্ষিণ গঙ্গাধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আবাদ গঙ্গাধরপুরের সঙ্গে শ্রীনারায়ণপুরকে জুড়তে এই সেতুটিই ছিল মূল ভরসা। ফলে সেতুটি ভাঙতেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সবাই চরম বিপাকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে রোগীদের নিয়ে। কালু নদী পেরিয়েই পৌঁছতে হয় গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিংবা রামগঙ্গায় বিডিও অফিসে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ। নিরুপায় হয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা কলার ভেলায় রোগী ও শিশুদের পারাপার করাতে বাধ্য হচ্ছেন
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে সেতু চত্বরে স্থানীয় মানুষের ঢল নামে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বক্তব্য, পাঁচ বছর আগে যখন সেতুটি তৈরি হচ্ছিল, তখনই ঠিকাদারদের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁরা মুখ খুলেছিলেন। সেতুটি তৈরির সময়ই একবার ভেঙে পড়েছিল।
অভিযোগ, তখন দায়সারা ভাবে সামান্য কিছু সরু রড গুঁজে তড়িঘড়ি ঢালাই করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় প্রতিবাদ জানাতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন গ্রামবাসীদের মারধর করে এবং পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করিয়েছিল। ৩২ লাখ টাকার সেই ‘কাঁচা কাজ’-এর খেসারত আজ হাতেনাতে দিতে হল গোটা এলাকাকে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, পাঁচ বছর আগে সেতু তৈরিতে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির চেয়েও এই মুহূর্তে স্থানীয়দের মূল দাবি একটাই নদীর ওপর দ্রুত যেন যাতায়াতের বিকল্প স্থায়ী ব্যবস্থাটুকু গড়ে তোলা হয়।