কলকাতা: তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এবার নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেয়। অন্য গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা আসন্ন ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীভাবে কার্যকর থাকবে।
এই নতুন প্রতীক প্রসঙ্গেই হিমন্ত বলেন, “জোড়াফুল গিয়েছে। দু’দিন পরে ফুটবল খেলোয়াড়ও যাবে।” তাঁর আরও মন্তব্য, “ফুটবল চুপসে যাবে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় ফিরবেন না এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন হবে। এগুলি হিমন্তের রাজনৈতিক মন্তব্য; এগুলিকে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী ফল বা ভবিষ্যৎ ফলাফলের তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।
হিমন্তের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে হিমন্তের মন্তব্যের জবাবে তাঁর কটাক্ষ, “শকুনের শাপে গরু মরে না।” কুণালের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল থাকবে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দুই গোষ্ঠীকে উপনির্বাচনের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বলেও রিপোর্টে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। এরপরই মিলন প্রধানকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। হিমন্ত এই গ্রেফতারিকে পুলিশের দায়িত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছেন।
তৃণমূলের প্রতীক বদল, নন্দীগ্রামে প্রার্থী পরিবর্তন এবং রেজিনগরের উপনির্বাচন এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ সরগরম। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে প্রতীক ও দলীয় পরিচয় নিয়ে দুই শিবিরের প্রচারও ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।