কলকাতা: যাদবপুরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়ি ও পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন এবং তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবব্রত মজুমদারের অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে হামলা, পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং সিসিটিভি ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর আরও দাবি, তাঁর দাদার সঙ্গেও হামলাকারীরা দুর্ব্যবহার ও ধাক্কাধাক্কি করেছেন। দেবব্রতর অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা জড়িত। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার মমতা তৃণমূলের সমর্থকেরা পথে নামেন এবং দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই পাপিয়া অধিকারীর প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।
মমতা তৃণমূলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাপিয়া বলেন, “মমতা বলে কেউ আছেন? মমতা তো নেই…” এরপর তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, মমতার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই এবং তাঁর ‘শরীরী আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে’। তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।
পাপিয়ার বক্তব্যের একটি অংশে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথাও উঠে আসে। তাঁর দাবি, দলের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে এবং বহু নেতা-কর্মী দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে চলে গিয়েছেন। তবে এগুলি তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য এবং এর সবকটি দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
যাদবপুরে কী ঘটেছিল?
দেবব্রত মজুমদারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি ও পার্টি অফিসে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ১০০ জনের একটি দল সেখানে এসেছিল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার জন্য বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের সরকারি ফল অনুযায়ী যাদবপুর আসনে বিজেপির সরবোরি মুখোপাধ্যায় জয়ী হয়েছেন এবং দেবব্রত মজুমদার দ্বিতীয় হয়েছেন।
এই ঘটনার পাশাপাশি বাঘাযতীন ও কুসুম কানন এলাকায় সিপিএমের দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগগুলির প্রকৃত কারণ, কারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর আরও স্পষ্ট হবে। এর মধ্যেই পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর।