কলকাতা: যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার পথে নামল মমতা তৃণমূল। বিজয়গড় থেকে বাঘাযতীন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। পাশাপাশি বিজয়গড়ে দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের কর্মসূচিও পালন করেন মমতা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা।
অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের একাধিক এলাকায় বাইকে করে আসা একদল দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালায়। একাধিক সিপিএম পার্টি অফিসে ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়ি ও কার্যালয়েও হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর দেবব্রত মজুমদারের পক্ষ থেকে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা এবং একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনার প্রতিবাদেই বিজয়গড় থেকে বাঘাযতীন পর্যন্ত মিছিল করা হয়। একইসঙ্গে বিজয়গড়ে মমতা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের কর্মসূচিও নেওয়া হয়।
তবে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন।
ঘটনাকে ঘিরে যাদবপুরের পাশাপাশি বাঘাযতীন, বিজয়গড়, গাঙ্গুলিবাগান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
এখন মূল প্রশ্ন, হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটল। অভিযোগের তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তর স্পষ্ট হওয়ার কথা। আপাতত রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই প্রতিবাদ মিছিল ও দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে সরগরম যাদবপুর।