নিউজ ডেস্ক: অবশেষে তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশ। শনিবার আলিপুর আদালতে প্রায় দু’হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রে দাবি, গুদাম তৈরির ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে গাফিলতি ছিল। শুধুমাত্র একটি ভুলের কারণেই বিপর্যয় ঘটেনি বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।
চার্জশিটে কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল শেখ, গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, আব্দুল হামিদ, দিবাকর ভান্ডারি, কমল সামন্ত এবং লাইসেন্সের দালাল মহম্মদ গুলজারের নাম রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা হলেও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের আরও দাবি, গুদাম নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ারদের কার্যকর কোনও ভূমিকা ছিল না। পাশাপাশি নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিপুল আর্থিক লেনদেনেরও ইঙ্গিত মিলেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তল্লাশির সময় সরাসরি কোনও টাকা উদ্ধার হয়নি।
গত ২৪ জুন তারাতলায় ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গোডাউন। এই ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি হয়। তারাতলায় যে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে, তাতে কলকাতা পুরসভার অনুমোদন ছিল। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি পূর্বের তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভবনটির প্ল্যান ছিল ত্রুটিযুক্ত এবং সেই প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ভবনের নকশা, নির্মাণের পদ্ধতি এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণমান খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাঁরা বিভিন্ন নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই বিশেষজ্ঞ তদন্তের বিষয়গুলিও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চলতি মাসেই তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ধৃত ব্যক্তি কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত। ধৃতের নাম আমিনুর শেখ। বাঁশদ্রোণী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি তারাতলার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন।
এর আগে এই ঘটনায় তারাতলা মোড়ের ফ্ল্য়াট থেকে গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মালিক ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, বিল্ডিং সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, লেবার সাপ্লায়ার দিবাকর ভাণ্ডারী ও মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদকে।