নবদ্বীপ, নিউজ ডেস্ক: নদীয়ার এক ভাড়া বাড়িকে ঘিরে আচমকায় বাড়তে থাকে রহস্য। বাইরের থেকে দেখে বাড়ি থেকে সাধারণ বলে মনে হত কিন্তু, সেখানে তল্লাশি চালানোর পর একাধিক সামগ্রী ও নথি উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন নামের পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে, ব্যাঙ্কের কাগজ,ব্যক্তিগত ডায়েরী উদ্ধার হওয়া ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। শেষমেষ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঘটনাটি নবদ্বীপ পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেঘড়িপাড়ার। স্থানীয় সংগঠনগুলির অভিযোগ ঘিরে পুলিশকে নিয়ে একটি স্থানীয় ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, ওই বাড়িতে ভুয়োপরিচয় পত্র নিয়ে নারীপাচারকারী সহ একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। যদিও তল্লাশির সময় অভিযুক্ত যুবককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তল্লাশিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০-১২টি বিভিন্ন নামের পরিচয়পত্র, চেকবুক, ব্যাঙ্কসংক্রান্ত নথি, ভিজিটিং কার্ড, সিলমোহর, মহিলাদের ছবি এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরী উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ডায়েরীতে বিভিন্ন মহিলাকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পিছনে কত টাকা খরচ হয়েছে তার হিসাব লেখা ছিল বলেও অভিযোগ সংগঠনের।
বজরং দল এর নদিয়া উত্তর জেলা আহ্বায়ক পল্লব সেনের অভিযোগ, নবদ্বীপের কিছু এলাকায় মিথ্যে পরিচয় ব্যবহার করে তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং পরে তাঁদের পাচারের একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে 'লাভ জিহাদের' কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। সংগঠনের নেত্রী সাথী চক্রবর্তীর দাবি, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে এসি মেকানিক বা সার্ভিস কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে একাধিক হিন্দু ও মুসলিম নাম ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন রাখতেন তিনি। উদ্ধার হওয়ার ডায়েরিতে বিভিন্ন মহিলাকে কি উপহার দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের পিছনে কত টাকা খরচ হয়েছে তাও লিখা ছিল।
এছাড়াও, তল্লাশিতে কয়েকজন মহিলার গর্ভপাত সংক্রান্ত চিকিৎসার নথি পাওয়া গিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই নথিগুলির সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ভাড়া বাড়ির মালকিন আমিলা বিবি জানান, অভিযুক্তের পরিবার প্রায় ২০-২২ বছর ধরে সেখানে ভাড়া থাকতেন। তবে, ঘরের ভিতরে কি কাজ চলত, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না বলে জানান। তল্লাশির পর ঘরটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত যুবকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ কি, তা তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।