জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে কি ঘটেছিল তা এখনও অজানা। তবে, সকালে চা বাগানের দৃশ্য দেখে থমকে যান স্থানীয়রা। একদিকে পড়ে থাকে একটি মোটর বাইক এবং অন্যদিকে, পড়ে থাকে একটি যুবক । কাছে যেতেই বোঝা যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। খবর যায় পুলিশের শুরু হয় তদন্ত।
জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ি এলাকায় রবিবার চা বাগানের ভিতরে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম মনোজিৎ রায় ,বয়স ২৮ বছর। তাঁর বাড়ি বেরুবাড়ি অঞ্চলে তারাপাইকবাড়িতে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত্রে সিঙ্গিমারি এলাকায় এক আত্মীয়ের দহন কাজে যোগ দিতে বেরিয়েছিলেন মনোজিৎ। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও রাতে আর ফেরেননি তিনি। দীর্ঘ সময়ের পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যেরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এরপর, রবিবার সকালে স্থানীয়রা তাঁকে চা বাগানের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখেন। তার পাশেই পড়েছিল মোটরবাইক। স্থানীয় বাসিন্দারা রামপ্রসাদ দাসের দাবি, মোটর বাইকের নিচে চাপা পড়েছিল ওই যুবকের দেহ। পরে তিনি স্থানীয়দের ডেকে বাইকটি সরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছই কোতোয়ালি থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দ্রুতগতিতে মোটরবাইক চালানোর সময় কোনও বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার সময় যুবক নেশাগ্রস্থ ছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে, এখানেই শেষ নয়। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মোটর বাইকের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। ফলে, আপাতত রাতের সেই শেষ যাত্রা কিভাবে চা বাগানে এসে থামল, সেই প্রশ্নই তদন্তকারীদের সামনে।




