আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই কালীপুজো। তার ঠিক আগের দিন উদযাপিত হয় ভূত চতুর্দশী। এদিন যেমন ১৪ শাক খাওয়ার রীতি আছে, তেমনই রয়েছে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম। বহু বছর ধরে বাঙালি পরিবারে এই প্রথা চলে আসছে। কিন্তু কেন এই দিনে ১৪ ধরনের শাক খাওয়ার নিয়ম রয়েছে, তা কি জানেন?
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে পূর্বপুরুষদের আত্মা মর্ত্যে আসেন। তাঁদের স্মরণেই বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। পাশাপাশি অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার বিশ্বাসও জড়িয়ে রয়েছে এই প্রথার সঙ্গে। তবে ১৪ শাক খাওয়ার পিছনে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, রয়েছে ঋতু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ধারণাও।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় থেকেই হেমন্তের আবহাওয়া শুরু হয়। গরম থেকে ঠান্ডায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মরশুমি বিভিন্ন শাক খাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ রাখার একটি প্রাচীন রীতি তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। লোকাচার ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মিলিয়েই ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক খাওয়ার প্রথা আজও বজায় রয়েছে।
কী কী শাক দিয়ে তৈরি হয় ১৪ শাক?
তালিকায় রয়েছে পলতা, সর্ষে শাক, নিম পাতা, শুশনি শাক, জয়ন্তী শাক, ওল শাক, ঘেঁটু বা ভাট শাক, কেঁউ শাক, বেতো শাক, শেলুকা, হিঞ্চে শাক, গুলঞ্চ শাক, শাঞ্চে শাক এবং কালকাসুন্দে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে-
বাংলা ২১ কার্তিক, শনিবার, ইংরেজি– ৭ নভেম্বর, শনিবার, সময়, সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে পড়ছে ভূত চতুর্দশী তিথি। চতুর্দশী তিথি শেষ হবে, বাংলা– ২২ কার্তিক, রবিবার, ইংরেজি, ৮ নভেম্বর। সেই দিন সময়– সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে তিথি শেষ হবে।
গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা মতে-
চতুর্দশী তিথি আরম্ভ বাংলা, ২০ কার্তিক, শনিবার, ইংরেজি, ৭ নভেম্বর, শনিবার সময়, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তিথি পড়ছে। চতুর্দশী তিথি শেষ বাংলা ২১ কার্তিক, রবিবার। ইংরেজি ৮ নভেম্বর, রবিবার সময় সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে শেষ হবে চতুর্দশী তিথি।




