নিউজ ডেস্ক: ত্বকের যত্নে ভিটামিন C সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দাগছোপ কমানো, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সুরক্ষার জন্য এই উপাদানটি বেশ পরিচিত। কিন্তু শহরের দূষণ, ধুলোবালি ও পরিবেশগত নানা কারণে ত্বকের উপর যে চাপ তৈরি হয়, তা সামলাতে শুধু ভিটামিন C যথেষ্ট নাও হতে পারে।
দূষিত বাতাসের ক্ষুদ্র কণা ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়া, প্রদাহ, পিগমেন্টেশনের সমস্যা কিংবা বয়সের ছাপ দ্রুত দেখা দেওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই কারণেই ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার ঠিক রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন C এই ক্ষেত্রে কার্যকর একটি উপাদান হলেও এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাতাস, আলো ও তাপের সংস্পর্শে ভিটামিন C-এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই স্কিনকেয়ার রুটিনে অন্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যুক্ত করার কথাও বিশেষজ্ঞরা বিবেচনা করতে বলেন। এমনই একটি উপাদান হল গ্যালিক অ্যাসিড। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত উপাদানে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট নিয়ে ত্বকের প্রদাহ ও পিগমেন্টেশন নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনার কথা গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাই ত্বকের যত্নে শুধু একটি সিরাম ব্যবহার করলেই হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন—সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হতে পারে কার্যকর স্কিনকেয়ার রুটিন। পুজোর আগে নিজেকে সুন্দর করে তোলার জন্য কেউ ঘরোয়া টোটকায় জেল্লা ফেরাতে চান, কেউ আবার যান পার্লারে। তবে রূপচর্চাশিল্পীরা বলছেন, এক দিন ফেশিয়াল করালে বা মাঝেমধ্যে এটাসেটা মাখলেই হয় না। ত্বক সুন্দর দেখাতে হলে ধারাবাহিক ভাবে যত্ন নেওয়া জরুরি।
এছাড়াও, পুজোর আগে হঠাৎ করে নতুন কোনও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করাও ঠিক নয়। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানের ঠিক আগে নতুন সিরাম, ক্রিম বা অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট ব্যবহার করলে কারও কারও ত্বকে অস্বস্তি, শুষ্কতা বা ব্রণ দেখা দিতে পারে। তাই যে স্কিন কেয়ার রুটিনে ত্বক অভ্যস্ত, পুজোর সময় সেটিই নিয়মিত মেনে চলুন। সবার আগে দু'বেলা ভালভাবে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। একইসঙ্গে ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে জল সবচেয়ে বড় ওষুধ। যার ফলে শরীরের টক্সিন বের করে দিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করে।