নিউজ ডেস্ক: রাস্তা আটকে বচসার জের। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই এক তরুণীকে বাইক থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে নাগেরবাজার এলাকায়। তরুণীকে মারধরের পাশাপাশি তাঁকে শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তরুণীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা স্থানীয়দেরও হামলার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই তাঁদের মধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার উপর কয়েকজন যুবক জড়ো হয়ে থাকায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। বাইক হর্ন দেওয়ায় চড়াও হয় তারা। সেই সময় ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পরিজনদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তরুণীকে তাঁর বাইক থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
তাঁকে হেনস্তাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার সময় তরুণীর আত্মীয়রা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, তখন অভিযুক্তরা তাঁদের উপরও চড়াও হয়। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। ঠিক কী কারণে বচসার সূত্রপাত এবং হামলার পিছনে কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপরই নাগেরবাজার থানায় ৪ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, 'আমি পুরো ঘটনাটার ভিডিও করেছিলাম। কিন্তু ওরা প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছিল। তখন ভয়ে আমি ভিডিওটি ডিলিট করে দিই। আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয়েছিল, আমরা আতঙ্কে ছিলাম সে সময়। আমি রিকোয়েস্ট করার পরও এভাবে আমার শ্লীলতাহানি করা হয়।'
তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানানো হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত কোনও আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও অস্ত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নাগেরবাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।




