JAZZBAAT 24 BANGLA
০৪ নভে ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
Breaking
WorkersProtest: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ, থমকে গেছে অর্থনীতি চাকা Politics: মমতার জোট বদলের ইতিহাস টেনে পোস্টের ব্যাখ্যা ঋতব্রতর, নোবেল বিতর্কেও কটাক্ষ বলিউড অভিনেত্রীর ২৭ বছরের প্রেমে ইতি, রণক্ষেত্রে মুখোমুখি নাগার্জুন-টাব্বু! Ranji Trophy 2026: ইডেনে মহাবিপদে বাংলা, হার বাঁচাতে শেষ দিনে অলৌকিক কিছুর অপেক্ষা Sachin Tendulkar: নিজের নেতৃত্বের দিন নিয়ে খোলামেলা শচীন পর্দায় কখনও স্বয়ং মা কালী, কখনও মাতৃশক্তির রূপ! এই ৭ বাংলা ছবি আজও মনে গেঁথে আছে! লোহার শিকলে বাঁধা মা কালী! চেতলার ডাকাত কালীবাড়ির নেপথ্যে কী রহস্য? দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, বাংলার ৭ বিখ্যাত কালীমন্দিরের অজানা ইতিহাস WorkersProtest: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ, থমকে গেছে অর্থনীতি চাকা Politics: মমতার জোট বদলের ইতিহাস টেনে পোস্টের ব্যাখ্যা ঋতব্রতর, নোবেল বিতর্কেও কটাক্ষ বলিউড অভিনেত্রীর ২৭ বছরের প্রেমে ইতি, রণক্ষেত্রে মুখোমুখি নাগার্জুন-টাব্বু! Ranji Trophy 2026: ইডেনে মহাবিপদে বাংলা, হার বাঁচাতে শেষ দিনে অলৌকিক কিছুর অপেক্ষা Sachin Tendulkar: নিজের নেতৃত্বের দিন নিয়ে খোলামেলা শচীন পর্দায় কখনও স্বয়ং মা কালী, কখনও মাতৃশক্তির রূপ! এই ৭ বাংলা ছবি আজও মনে গেঁথে আছে! লোহার শিকলে বাঁধা মা কালী! চেতলার ডাকাত কালীবাড়ির নেপথ্যে কী রহস্য? দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, বাংলার ৭ বিখ্যাত কালীমন্দিরের অজানা ইতিহাস

WorkersProtest: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ, থমকে গেছে অর্থনীতি চাকা

WorkersProtest: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ, থমকে গেছে অর্থনীতি চাকা
ছবি: এ আই ও গ্রাফিক্স দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: ন্যূনতম মজুরি মাসে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা শ্রমিক আন্দোলনে সাভারের আশুলিয়া, হেমায়েতপুর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বন্ধ থাকছে দোকানপাট ও বিপণিবিতান। শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকেরা। পোশাক শিল্পে অসন্তোষে বর্তমানে থমকে গেছে সাভারের আশুলিয়া, হেমায়েতপুর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। অথচ এই আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ভাড়াটে লোকজনও অংশ নিয়েছিলেন। তাদের একটি বড় অংশ ছিলেন মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকার। ঘণ্টা হিসেবে তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল।

শিল্প পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা সাত দিন ধরে ন্যূনতম মজুরি মাসে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ১ নভেম্বর থেকে তা সহিংস রূপ নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তার কারণে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। গত ২ নভেম্বর সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ ও আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় সাত ঘণ্টা যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়লে কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ আশপাশের দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলন চলাকালে নাওজোড় এলাকায় একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় বেশ কিছু যানবাহন। এর আগের দিন কোনাবাড়ী এলাকায় দুটি পুলিশ বক্স ও একটি কারখানার ঝুটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। ভাঙচুর করা হয় ১৫টি যানবাহন। সেদিন শতাধিক শিল্পকারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। গত মঙ্গলবার সড়ক অবরোধের সময়ও বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। গত বুধবার সকালেও আন্দোলনের প্রভাব পড়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। সাইনবোর্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করেন। এ ছাড়া নলজানি এলাকায় আন্দোলনের চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে অন্য আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আন্দোলনপ্রবণ এলাকার ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলায় নিরাপত্তাহীনতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় দোকানপাট খুলতে পারছেন না তাঁরা। সন্ধ্যার পর দোকান খুললেও ক্রেতার উপস্থিতি থাকে কম। ফলে প্রতিদিনই ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। মৌচাক এলাকার মুদি দোকানি রাব্বি বলেন, প্রতিদিনই শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। তাঁদের হামলার ভয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। এ ছাড়া পুলিশও টিয়ারশেল ছোড়ে। ছোট দোকানটির আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলে। এখন দোকান বন্ধ থাকায় কোনো আয় নেই। বাসাভাড়া ও সংসারের খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনেও। কারখানা বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিককে কাজ ছাড়া বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে যাঁদের আয়, তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেশি।

নাওজোড় এলাকার শ্যানন সোয়েটার কারখানার শ্রমিক সালমা বেগম বলেন, তিনি ওই কারখানায় চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। যত উৎপাদন হয়, সেই অনুযায়ী তাঁর বেতন নির্ধারিত হয়। কিন্তু টানা শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ রেখেছে। কাজ না থাকায় এখন তাঁকে বাড়িতে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। সালমা বেগম আরও বলেন, এভাবে ভাঙচুর ও বিভিন্ন স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা চলতে থাকলে মালিকেরা কারখানা বন্ধ করে দেবেন। তখন শ্রমিকেরা কোথায় কাজ করবেন, কী খাবেন? তাঁদের আবার গ্রামে ফিরে যেতে হবে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে আটকে থেকেছে পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন মালিকেরা। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গাজীপুর জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর সিরাজ বলেন, সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বিভিন্ন রুটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে ছিল। এতে নিয়মিত গাড়িগুলো ট্রিপ দিতে পারেনি। সব মিলিয়ে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা না হওয়ায় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে বসলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, গতকাল বুধবার বিভিন্ন কারণে গাজীপুরে ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা বিক্ষিপ্তভাবে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় টোল প্লাজা ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ১ হাজার ২০০ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে বাসন থানায় মামলা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা রোধে পুলিশ, আনসার ও এসআরবি সদস্যদের পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে গতকাল বুধবার সকালে হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকাটির সার্বিক সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম, দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্য, আন্দোলনরত শ্রমিক, সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক এবং সাধারণ পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার বিকেলেও একই দাবিতে হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন শ্রমিকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেসময় অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও বুধবার সকালের নতুন এই সংঘাত পুরো শিল্পাঞ্চলকে আরও অস্থির করে তুলেছে। বর্তমানে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশের অনুসন্ধানে আন্দোলনে হকারদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১১ জনের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। শ্রমিকের ছদ্মবেশে তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আন্দোলনের নেপথ্যে অর্থায়ন, লোকজন সংগ্রহ ও হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

গত রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে গোয়েন্দারা বিষয়টিকে নিছক শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে না দেখে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক একজন সংসদ সদস্য, তার ভাগনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন এ ঘটনায় নেপথ্যে জড়িত ছিলেন। অর্থ সহায়তা দিয়ে তারা লোকজনকে মাঠে নামিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর-১০ এলাকার কয়েকজন চায়ের দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনে পোশাকশ্রমিকদের পাশাপাশি হকাররাও অংশ নিয়েছিলেন। তাদের অনেককে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে চিনেছেন, জানতে চাইলে দোকানিরা বলেন, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে দোকানে এসে শ্রমিকদের পাশাপাশি চা ও খাবার খেতেন। এ কারণে তাদের অনেককে চেনেন তারা। কারও কারও নামও জানেন। এক দোকানি বলেন, তার দোকানে চা খেয়েছেন, এমন কয়েকজনকে সেদিন লাঠিসোঁটা হাতে দেখেছেন। তাদের শ্রমিক আন্দোলনে থাকার কথা নয়। পরে জানতে পেরেছেন, তারা ভাড়ায় এসেছিলেন। হকারদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে ডিবি ও পুলিশ। একই সঙ্গে এলাকায় ভাড়া থাকা পোশাকশ্রমিকদের নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিবির একটি সূত্র জানায়, ভাসমান চায়ের দোকানিদের কাছ থেকে হকারদের নামের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁরা কোথায় থাকেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। ডিবি সূত্র জানায়, আন্দোলনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হয়েছিল। তারা রাতে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবস্থান করতেন। সকালে নেমে পড়তেন মাঠে। অন্যদিকে স্থানীয় হকারদেরও সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে যুক্ত করা হয়েছিল। ঘণ্টা হিসেবে তাদের ভাড়া করা হয়। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তারা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, এসব ব্যক্তিকে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ছবি তুলে নির্দিষ্ট গ্রুপে পাঠাতে হবে।

আন্দোলন পরিচালনা ও লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক গ্রুপ খোলা হয়েছিল। এসব গ্রুপে ছবি পাঠালেই বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো বলে ডিবির সূত্র জানিয়েছে। ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, হকারদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি সামনে আনছেন না। কারণ, এ তথ্য প্রকাশিত হলে অন্য হকাররাও আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন। সম্প্রতি মিরপুরে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন হকাররা। তাদের এই ক্ষোভকে কাজে লাগানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আওয়ামী লীগপন্থী হকারদের একটি অংশ তাদের সংগঠিত করেছিল। এই হকারদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে দোকান বসানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। উচ্ছেদের পর তারা বেকার হয়ে পড়েন। এই সুযোগ কাজে লাগায় ষড়যন্ত্রকারী চক্র। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও এতে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবির মিরপুরের একটি সূত্র ও স্থানীয় কয়েকজন দোকানি জানান, আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের পাশাপাশি উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুব্ধ হকাররাও অংশ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে তারা একজোট হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

সম্প্রতি মিরপুরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পর সেখানে নতুন করে কাউকে বসতে দেয়নি সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে আবারও ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা করেছিলেন হকাররা। কিন্তু তাতে সফল হননি। পরে শনিবার শ্রমিক আন্দোলন শুরু হলে আওয়ামী লীগপন্থী হকারদের একটি অংশ এটিকে সুযোগ হিসেবে নেয়। তাদের মাধ্যমে অন্য হকারদেরও একত্র করে দলভিত্তিকভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ানো হয়। ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, হকাররা মূলত ফুটপাতে বসতে না দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, এভাবে সরকারকে চাপে ফেলা যাবে। তবে সেটি সম্ভব হয়নি। এ আন্দোলনে জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী হকারদের একটি অংশও একজোট হয়েছিল। তাদের নামের তালিকা করে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে কয়েক শ হকারের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে ডিবি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিবির প্রধান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এ আন্দোলনে হকাররা অবশ্যই জড়িত ছিলেন। তবে তাদের কারা আন্দোলনে এনেছিলেন, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্দোলনের আড়ালে কারা অর্থায়ন করেছেন, কারা লোকজন সংগঠিত করেছেন এবং কারা সরাসরি হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

2 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

US Senate Election 2026: প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে বদল! আমেরিকার প্রথম সমকামী পুরুষ সেনেটর ক্রিস পাপাস
বিদেশ

US Senate Election 2026: প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে বদল! আমেরিকার প্রথম সমকামী পুরুষ...

নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী কোনও পুরুষ নির্বাচিত হলেন মার্কিন সেনেটের সদস্য হিসাবে। নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস জয় ছিনিয়ে নিলেন...

০৪ নভে ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম · 2 মিনিট
Bangladesh: ঢাকায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, আহত শতাধিক
বিদেশ

Bangladesh: ঢাকায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, আহত শতাধিক

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে উচ্চ মজুরির দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীর মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ সময় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান...

০৪ নভে ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম · 2 মিনিট
US Midterm Elections 2026: ট্রাম্প থেকে ইলন মাস্ক, বিবেক রামাস্বামী,ধাক্কা খেলেন কারা, লাভের মুখ দেখল কারা
বিদেশ

US Midterm Elections 2026: ট্রাম্প থেকে ইলন মাস্ক, বিবেক রামাস্বামী,ধাক্কা খেলেন ক...

ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছে আমেরিকার রাজনীতির আগামী দিনের ছবিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে সরিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত...

০৪ নভে ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম · 5 মিনিট
US Midterm Elections 2026: ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, মার্কিন কংগ্রেসের দখল ডেমোক্র্যাটদের!
বিদেশ

US Midterm Elections 2026: ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, মার্কিন কংগ্রেসের দখল ডেম...

ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের পিছনে ফেলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চলেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটে পাঁচটি আসন দখলের পাশাপ...

০৪ নভে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম · 4 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.