নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের বড়সড় হামলা।শুক্রবার নমাজের সময় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
পুলিশকর্মী-সহ অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কো আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইন্স এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গাড়িটি বিস্ফোরণের পরই শুরু হয় গুলির লড়াই। ওই সময় কমপ্লেক্সের মসজিদে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নমাজ পড়ছিলেন। বিস্ফোরণের জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পর একাধিক বন্দুকধারী কমপ্লেক্সের ভিতরে ঢুকে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অতিরিক্ত বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলে অভিযান। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শেষ করে। পুলিশের দাবি, অভিযানে বেশ কয়েকজন হামলাকারী নিহত হয়েছে।
কোহাটের এই পুলিশ কমপ্লেক্স নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জেলা পুলিশের পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সহ পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শাখার দফতর রয়েছে। ফলে এমন একটি জায়গায় হামলা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাকিস্তানি তালিবান বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম কেন্দ্র। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এই প্রদেশে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর কোহাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের এই খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এই আফগানিস্তানের সঙ্গে বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের ডুরান্ড লাইন নিয়ে সংঘাত রয়েছে। তারই মাঝে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বিস্ফোরণের কারণ ও এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।




