নিউজ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার অন্যতম কারণ, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাতে যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোর জন্য যুদ্ধই একমাত্র পথ। পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে গেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তাঁর সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গেই ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয়, কথাটা অনেকটাই সত্যি। কারণ, স্বল্পমেয়াদে এই যুদ্ধের ফলে পেট্রলের দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল।’
তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও অনুশোচনা নেই ট্রাম্পের। তাঁর কথায়, ‘কিন্তু একই সঙ্গে বলতে পারি, যদি আমাকে আবারও এই সিদ্ধান্ত নিতে হত, তা হলে সেটাই করতাম। কারণ, দীর্ঘমেয়াদে এটাই একমাত্র উত্তর। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র রাখতে দেওয়া যায় না।’
যুদ্ধের বিষয়ে আমেরিকা অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারত বলেও মনে করেন না ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক শক্তিকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের বিষয়ে আমি অন্য কিছুই করতাম না। আমরা ওদের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছি। নৌবাহিনী শেষ। বিমানবাহিনী শেষ। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শেষ।’
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, বর্তমানে ওই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। ট্রাম্পের কথায়, ‘ইরানের বিষয়টি আমাদের করতেই হত। এখনও আমরা সেটা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল বেরিয়ে আসছে। শুরুতে একেবারেই কিছু ছিল না। আর সম্ভবত সেটাই প্রধান কারণ—যুদ্ধ নয়, তেলের দাম।’
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়লেও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে পদ থেকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কাজের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন।’
অন্য দিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে যাঁকে দেখা হয়, সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি ইরান যুদ্ধকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন। ফলে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরেই চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের উপর। কিন্তু আপাতত সেই চাপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখার যুক্তি দেখিয়ে যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ফের সমর্থন করেছেন তিনি।




