নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় প্রবীণ নাগরিকদের প্রতারণা করে হাতানো টাকা পাচারের অপরাধে আট বছরের কারাদণ্ড হল এক ভারতীয়ের। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের প্রায় ২৪ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দোষী আহমেদ মকবুল সৈয়দ (৬০) ভারতের নাগরিক। একসময় আমেরিকার ইলিনয়েসে থাকতেন তিনি।
আমেরিকার বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন জেলা বিচারক জন সি হিন্ডারেকার সৈয়দকে ৯৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আগেই স্বীকার করেছিলেন তিনি। সেই মামলাতেই এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ২৪ লক্ষ ডলার দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে প্রবীণ নাগরিকদের নিশানা করে চলত এই প্রতারণা চক্র। মূলত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার নাম করে এবং সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হত। অ্যারিজোনা-সহ আমেরিকার একাধিক রাজ্যে এই প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল। সেই চক্রের হাতানো টাকা পাচারের কাজে যুক্ত ছিলেন সৈয়দ।
প্রথমে প্রতারকেরা ভুয়ো কম্পিউটার বার্তার মাধ্যমে প্রবীণদের বিভ্রান্ত করত। কম্পিউটারে সমস্যা হয়েছে অথবা সেটি আটকে গিয়েছে, এমন সতর্কবার্তা দেখানো হত। সেই সমস্যার সমাধানের জন্য বার্তায় দেওয়া নম্বরে ফোন করলেই প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে যেত। তারা নিজেদের প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী অথবা সরকারি প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিত।
এর পর প্রতারকেরা দাবি করত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি গিয়েছে। বাস্তবে এমন কোনও ঘটনা না ঘটলেও ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টা চলত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রবীণদের এমনও বলা হত যে তাঁদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশুদের পর্নোগ্রাফি অথবা অন্য কোনও অপরাধের যোগ রয়েছে।
এই ধরনের ভয় দেখিয়ে প্রতারকেরা তাঁদের টাকা সরিয়ে ফেলতে বলত। দাবি করা হত, সম্পত্তি ও সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে হলে দ্রুত টাকা তুলে অন্যত্র রাখতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে অনেকেই ব্যাঙ্ক থেকে নগদ টাকা তুলে দিতেন। কাউকে আবার সোনা কিনে প্রতারকদের হাতে তুলে দিতে বলা হত। সরকারি আধিকারিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের হাতে সেই টাকা তুলে দিতেন তাঁরা।
এছাড়াও উপহার কার্ড কিনে তার নম্বর প্রতারকদের পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হত। দাবি করা হত, ওই কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা হবে। অন্তত এক জন প্রবীণকে বিটকয়েন এটিএমে নগদ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল।
আমেরিকার বিচার বিভাগের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই প্রতারণার জেরে বহু প্রবীণ নাগরিক তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয়ের বড়ো অংশ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রায় সমস্ত সঞ্চয়ই খুইয়েছেন। সেই প্রতারণা চক্রের টাকা পাচারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অপরাধেই সৈয়দের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে আদালত।




